প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অনুসন্ধানী সংবাদ ম্যাগাজিন ‘তেহেলকা’র সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। একই সময়ে ২০২১ সালে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায়টি বাতিল করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আদালত তেজপালকে নির্দেশ দেন যে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। রায়ের পর, তিনি নিজেকে ‘রাজনীতির শিকার’ হিসেবে দাবি করে জানান যে, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
মামলাটি ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় অনুষ্ঠিত থিঙ্কফেস্ট অনুষ্ঠানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন কনিষ্ঠ এক নারী সহকর্মীকে একটি হোটেলের লিফটের ভেতরে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ধর্ষণ করেন তেজপাল।
এ মামলায় ২০১৭ সালে মাপুসার সেশনস আদালতে বিচার শুরু হয়। পরে, ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তেজপালকে খালাস দিলে গোয়া সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করে।
বিচারপতি ড. নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে।
শুনানির সময় ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজ্য সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং বলেন যে, যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির আচরণ নিয়ে পূর্বধারণার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত গুরুতর ভুল করেছে। তার মতে, একজন ভুক্তভোগী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বজনীন মানদণ্ড নেই; এটি ব্যক্তিভেদে, পরিস্থিতিভেদে এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
দণ্ড ঘোষণার পরে তুষার মেহতা আদালতে তেজপালের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের আবেদন জানান। তিনি বলেন, যখন কোনো নারী 'না' বলে, তখন তার অর্থ 'না' এবং সমাজের কাছে এই বার্তাটি পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
অন্যদিকে, আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ৬২ বছর বয়সী তেজপাল নিজের প্রতি দয়া প্রদর্শনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে একজন ভুক্তভোগী মনে করি। আমার একজন স্ত্রী আছেন। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’ তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন