প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি সম্পর্কিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রীর চট্টগ্রামে আসার ঘটনা সংসদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর ঘটে। তিনি বায়েজিদ ও হাটহাজারীর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন। এরপর, রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের পর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নগরীর বায়েজিদে একটি পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও ধসে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা ঘটনার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, অবৈধভাবে গড়ে উঠা পাহাড়ে বা ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্থানে বসবাসের কারণে এমন ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে জরুরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে ৩ হাজার ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র রাঙ্গামাটির ২৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সমসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ অবস্থান করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি স্লুইসগেট ঠিকভাবে কাজ না করায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এসব দ্রুত মেরামত করার প্রয়োজন রয়েছে, অন্যথায় জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ মনে করে তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন