প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলছেন, নতুন পাঠ্যবই প্রস্তুতির জন্য অতীতের ভুল, দুর্বলতা এবং নেতিবাচক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে সকল সংশ্লিষ্টকে একত্রিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই), রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আয়োজনে নতুন পাঠ্যবইয়ের ভ্যালিডেশন (যাচাই) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষামন্ত্রী এসময় বলেন, বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা পাঠ্যবইয়ের খসড়া দ্রুত পর্যালোচনা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত প্রদান করতে হবে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বইগুলোকে চূড়ান্ত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, অতীতের বিভিন্ন ভুল এবং দুর্বলতার ধারাবাহিকতা আর ধারণা করা যাবে না। বর্তমান বাস্তবতার সাথে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে বিন্যাস করতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন করতে হবে যে, আমরা অতীতের আবর্জনা নিয়ে এগিয়ে যাব, নাকি সেখান থেকে বেরিয়ে আসব। আগের কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব হবে না।
মন্ত্রী জানান, বিশেষজ্ঞদের তৈরি চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বশীলদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো পর্যালোচনা করে মতামত দেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বইগুলোকে চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং টিম লিডারদের বইগুলোকে আরও প্রাণবন্ত, সহজবোধ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে পাণ্ডুলিপি গভীরভাবে পর্যালোচনার আহ্বানও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী এনসিটিবির প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বইয়ের ছাপা, কাগজ এবং মলাটের মানের ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করা হবে না। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করবে এবং শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ছাপাখানা এবং কাগজশিল্পের মালিকদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পাঠ্যবইয়ে অসংখ্য বানান এবং সম্পাদনাগত ভুল ছিল, যা সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এবার বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দলগতভাবে কাজ করার ফলে এ ধরনের ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী ১ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের কারিকুলাম ও পাঠ্যবই তৈরি কাজ শুরু হবে। বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে শিক্ষণ-পদ্ধতির উন্নয়ন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও যুগোপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যবই প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞ, লেখক এবং সংশ্লিষ্টদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, মানবিক, নৈতিক এবং দেশপ্রেমের দায়বদ্ধতা থেকেই তারা কাজ করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যবই প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
পরিশেষে, শিক্ষামন্ত্রী নতুন পাঠ্যবইয়ের ভ্যালিডেশন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন