প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের মাঝে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কটুভাষা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে প্রচারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বার্তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী যখন ভিডিওর মাধ্যমে কিশোরদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—এই মানবিক ক্ষমা প্রদর্শন কি শুধু ভিডিও রিলস হাসিল করার কৌশল, নাকি প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আইনি মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে?
শুক্র ও শনিবার প্রকাশিত মোদির সেলফি-স্টাইলের ভিডিওর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘বন্ধু, শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও প্রত্যাহার করে নেবেন?’
ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময়। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গালাগাল ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে নয়ডার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার মোদি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজ আমার শুধু আপনাদের সঙ্গে কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছে। যন্তর মন্তরে কী ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিশু অত্যন্ত অশালীন ও কটুভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজের সঙ্গে মানানসই নয়। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গালি দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। এটি সত্যিই এক জঘন্য দৃশ্য ছিল।
নিজের ভিডিও বার্তায় মোদি এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেসব তরুণ ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের স্থায়ীভাবে দায়ী না করে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত। তিনি দীর্ঘমেয়াদি আইনি পদক্ষেপ বা সামাজিকভাবে কাউকে একঘরে করে রাখার বিপক্ষে মত ব্যক্ত করেন। মোদি আরও যোগ করেন, তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চত্বরে টানটান করা কিংবা সমাজে হয়রানি করা—এর কোনোটিই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনবে না। আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজেরও উচিত এই বিষয়টি মেনে নেওয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে মোদির এই সহানুভূতির বার্তাকে সস্তা প্রচার বলে অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রধান অভিজিৎ দীপ অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন এখানে আইনের দ্বিমুখী নীতি প্রয়োগ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিজেপিকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, শুধু গালি দেওয়ার অভিযোগে যদি মামলা করা হয়, তবে বিজেপির আইটি সেলের যেসব সদস্য বিগত বহু বছর ধরে অনলাইনে নারীদের নিয়ে কটুভাষা ব্যবহার করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে কখন মামলা হবে? তিনি দাবি করেন, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত নারীদের অসম্মানজনক ভাষায় আক্রমণ করে এবং তারা নিজেদের বায়োতে সগর্বে ‘ফলোড বাই পিএম মোদি’ লিখে রাখে। তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা দায়ের হবে?
ভিডিও বার্তার সঙ্গে দেওয়া পোস্টে দলটি সরাসরি প্রশ্ন তোলে, বহু বছর ধরে নারীদের উদ্দেশে গালিগালাজ ছড়ানো আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কি এফআইআর বা মামলা দায়ের করবে? দীপকের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য বা বাদানুবাদের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া উচিত নয়। তিন বলেন, কটুভাষার অপরাধে যদি আইনি পদক্ষেপ নিতেই হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি মামলা হওয়া উচিত বিজেপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আইটি সেলের বিরুদ্ধে, কারণ তাদের নেতারাও বহু বছর ধরে এমনকি ভারতের জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরেও অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
উল্লেখ্য, মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ে অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি সমালোচনা নতুন নয়। এর আগে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা-সংক্রান্ত নতুন গৃহীত প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি, যা পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে দাবি করা হয়। সেই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে দীপকে কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল।’
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক ও সাইবার অঙ্গনে বর্তমানে তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন