প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর এলাকার আওতাধীন একটি নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশার বাইরে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, ৬ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে বর্তমানে ৯ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, এবং ভবনটি ১০ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে জননিরাপত্তা এবং বিল্ডিং কোডের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ভৈরব পৌর শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকায়, আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আমেরিকা প্রবাসী মো. ইকবাল মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে দেখা যায় যে, ভবনের ৯ম তলার নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভবনটির জন্য ভৈরব পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, ভৈরব পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনুমোদনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ভবনেই ৬ বা ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ থেকে ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) এবং ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা (সেটব্যাক) না রেখেই অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় এক ভবন মালিক বলেন, “প্রায় আড়াই বছর আগে ভবনটির ৬ তলার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ৯ম তলার কাজ চলছে এবং ১০ম তলা পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
আরেক বাসিন্দার দাবি হচ্ছে যে, ভৈরব পৌর এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি ভবনেও অনুমোদনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ভিআইপি প্লাজার পেছনে অবস্থিত কয়েকটি বহুতল ভবনের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ভবনটির সামনে সড়ক খোলা থাকলেও বাকি তিন পাশে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভবনের মালিক আমেরিকা প্রবাসী মো. ইকবাল মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “অভিযোগটি তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ আইনসম্মত নয়। এছাড়া, ভবনের চারপাশে নির্ধারিত সেটব্যাক বা খোলা জায়গা রাখা, অগ্নিনিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অনুমোদিত নকশায় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হয়। সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বিবেচনা না করে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তাদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই ভৈরবকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন