প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাগুরা সদরের মাঝিপাড়া গ্রামে একটি বন্যপ্রাণীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, প্রাণীটি আসলে একটি বিলুপ্তপ্রায় মেছো বাঘ, চিতা বাঘ নয়।
গত শনিবার রাত ১১টার দিকে, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময়, ইসরাফিল হোসেন নামের এক যুবক প্রথম প্রাণীটিকে দেখেন। তিনি বলেন, রাস্তার পাশের একটি গাছ থেকে প্রাণীটি হঠাৎ তার সামনে লাফিয়ে পড়ে। তিনি প্রাণীটির একটি ভিডিও ধারণ করেন, যার দৈর্ঘ্য সাত সেকেন্ড ছিল এবং এটি মুঠোফোনের আলো জ্বেলে ধারণ করা হয়েছিল।
ইসরাফিলের দাবি, প্রাণীটি দেখতে চিতা বাঘের মতো। পরে গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেটির খোঁজ করতে থাকেন, কিন্তু রাতের অন্ধকারের কারণে সেটির সন্ধানে সফল হননি। রবিবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে মাঝিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ বেড়ে যায়, বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে চিন্তা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মোল্লা জানান, বর্ষার সময় হচ্ছে এখন। চারপাশে ঝোপঝাড় বাড়ে এবং এই বাঘের গল্প শুনে শিশুদের মধ্যে কিছুটা ভয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে তারা এই মেছো বাঘ দেখে আসছেন এবং কোনওদিন কারো ক্ষতি করার কথা শোনা যায়নি। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বাঘটি মাঝে মধ্যে গেরস্তের বাড়ি থেকে মুরগী ধরে খেতে দেখা গেছে। বর্তমানে, এটি আগের মতো সাধারণভাবে দেখা যায় না। এই প্রাণীকে স্থানীয় ভাষায় 'বাঘডাশা' বলে অভিহিত করা হয়।
জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি চিতা বাঘ নয়, বরং মেছো বাঘ বা বাঘডাশা। তারা সাধারণত জলাশয়ের কাছাকাছে থাকে এবং মাছ বা ছোট প্রাণী খেয়ে বাঁচে। মেছো বাঘ মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বরং পরিবেশের উপকারে আসে। তিনি এই প্রাণীটিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সুরক্ষিত ঘোষণা করে এটিকে না মেরে নিরাপদে থাকতে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন