প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ভারত একটি বড় মহাকাশ শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, শিল্প সক্ষমতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেশটির মহাকাশ খাতের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করছে বলে তিনি মনে করেন।
ইন্দো-মেডিটেরেনিয়ান ডায়ালগের অংশ হিসেবে অনলাইনে দেওয়া এক বক্তব্যে মরিসন এসব কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, মহাকাশ খাতে ভারতের সামনে প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বিনিয়োগ- তিন ক্ষেত্রেই বড় সুযোগ রয়েছে। মরিসন বলছেন, ‘আমার মনে হয়, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি আরো পরিণত হবে। তখন ভারত একটি মহাকাশ শক্তি হয়ে উঠবে।’ ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের গণতন্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, ‘ভারত তার গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। সেটি করতেই হবে।
কারণ বিনিয়োগকারীরা কেন ভারতে অর্থ বিনিয়োগের ঝুঁকি নেবেন, তার বড় একটি কারণ হলো এই বিষয়টি।’ মরিসন আরো বলেন, আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলো চীনে তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছে। এর ফলে চীন থেকে সরিয়ে নেওয়া বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা দেখেছি, চীন থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হচ্ছে। এসব বিনিয়োগ কোথায় যাবে? ভারত এমন দেশগুলোর একটি হবে, যারা এসব বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে। আমার মনে হয়, ভারত এ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারবে।’
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে মহাকাশ খাতে সহযোগিতাও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দেয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। এই সহায়তার অন্যতম লক্ষ্য হলো, ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচি ‘গগনযান’-কে সহায়তা করা। তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের সময় মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে মহাকাশ ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন আলবানিজ। তিনি বলেন, ‘মহাকাশ ও প্রযুক্তি খাতে আমাদের সহযোগিতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালুর বিষয়ে একমত হয়েছি। এটি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ গগনযান মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচিকে সহায়তা করবে।’
ভারত দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর গগনযান কর্মসূচিকে দেশটির মহাকাশ খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতার ফলে এই কর্মসূচিতে দুই দেশের প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরো বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মরিসনের বক্তব্য এবং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সহযোগিতার ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, ভারতের মহাকাশ খাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক দশকে ভারত মহাকাশ অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন