প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ফ্রান্স বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে। ফেবারিট ফ্রান্সের এই জয়ে বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পের গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। গত ম্যাচে ব্র্যাডলি বারকোলা বাকি গোলটি করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে দিদিয়ের দেশ্যমের দল পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-আই’র মিশন শুরু করেছে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত এক পাসে ডেডলক ভাঙ্গেন এমবাপ্পে। বিরতির আগে ফ্রান্সের ছন্দহীন খেলা ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পুরানো ফর্মে ফিরে আসে। পিএসজি তারকা বারকোলা দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে একটি গোল করেন। স্টপেজ টাইমে বারকোলার ক্লাব সতীর্থ ইব্রাহিম এমবায়ে একটি সান্তনার গোল করেন। তবে এমবাপ্পে ইনজুরি টাইমে দুর পাল্লার শট মারার মাধ্যমে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতার জাতীয় দলের জার্সিতে গোল সংখ্যা ৫৮।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে জানান, ‘আমি দেশের জন্য ইতিহাস রচনা করতে মাঠে নামি। দলের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করতে চাই এবং অবশ্যই বিশ্বকাপ জিততে চাই। এটা আমাদের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ। আমি মনে করি আমাদের কাছে প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেক বেশী। কিন্তু আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিয়ে প্রতি ম্যাচে এগিয়ে যেতে হবে।’
দিদিয়ের দেশ্যমের অপরিকল্পনা ছিল ওলিসেকে রাইট-উইংয়ে সরিয়ে নেবার। যদিও পুরো ম্যাচের স্পটলাইট ছিল এমবাপ্পের উপর, যিনি ৯৯তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামলেন। ২০১৮ সালে ফাইনালে শিরোপা জয়ী ফ্রান্সের হয়ে গোল করার পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকও করেছেন। সব কিছু মিলিয়ে এমবাপ্পে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় গার্ড মুলারকে ছুঁয়েছেন। তার সামনে এখন রয়েছেন ব্রাজিলের রোনাল্ডো (১৫) ও মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬), পাশাপাশি লিওনেল মেসি (১৬)ও।
দেশ্যম বলেন, ‘এটা স্বস্তির। আমরা কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। শুরুটা ভাল হয়নি, তবে ভালো একটি দলের বিপক্ষে আমরা দ্রুতই ছন্দে ফিরেছি।’
প্রতিভাবান স্কোয়াডের আত্মতুষ্টি নিয়ে দেশ্যম কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন। বিশেষ করে সেনেগালের অতীত ইতিহাস ফ্রান্সের জন্য সুখকর ছিল না। ২০০২ বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামা ফ্রান্স লায়ন্স অব তেরাঙ্গার কাছে প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। সেই পরাজয়ের কষ্ট থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি।
অভিজ্ঞ সাদিও মানের নেতৃত্বে সেনেগাল দারুণভাবে শুরু করেছিল। দলে চারজন ফ্রান্সে জন্ম নেয়া খেলোয়াড় ছিল। জানুয়ারিতে আফ্রিকান নেশন্স কাপের পর এই প্রথম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক ম্যাচে সেনেগাল মাঠে নেমেছিল। প্রথমার্ধে সেনেগাল ফ্রান্সের তুলনায় ভালো খেলছিল। নিকোলাস জ্যাকসন ২৫ মিনিটে গোলে যাওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন, কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইসমালিয়া সার ইনজুরি টাইমে সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ওলিসেকে রাইট-উইংয়ে পেয়ে ফ্রান্স মোটেই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। মানের চ্যালেঞ্জের বিপক্ষে ফ্রান্স পেনাল্টির আবেদন করে, কিন্তু সফল হতে পারেনি। ৬৬ মিনিটে ওলিসের হাত ধরেই আসে প্রথম গোল। তার দুর্দান্ত এ্যাসিস্টে এমবাপ্পে কোন ভুল করেনি। আদ্রিয়েন রাবোয়িতের দেয়ালে বদলী খেলোয়াড় বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৯৫ মিনিটে এমবায়ে এক গোল পরিশোধ করলেও পরের মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন