প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, সেভাবেই প্রায় তিন দশক আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত করেছিল একটি ঘটনা। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি মূলত রাজনীতির মাঠে বড় পরিচিতি অর্জন করেন।
সে সময়, ওড়িশার কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী জনকী বল্লভ পট্টনায়কের সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন এবিভিপির ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে প্রবেশ করা তরুণ প্রধান, উৎকলে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে।
ভুবনেশ্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে তিনি। তবে, পুলিশের লাঠিচার্জে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। ক্যাম্পাস রাজনীতির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুলিশের দমন পীড়ন বর্ণনাকারী তার এই লড়াকু মানসিকতা পরবর্তীতে তাকে বিজেপির মূল স্রোতের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।
ছাত্র রাজনীতির সেই কণ্টকাকীর্ণ পথ থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০২১ সালে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় বিজেপির ভিত্তি শক্ত করার পেছনে তার দীর্ঘ সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার হাত ধরে ২০২৪ সালে সেখানে দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই ধরনের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর ফলস্বরূপ দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার পরিস্থিতি ১৯৯৭ সালের সেই পুরোনো ইতিহাসকে সামনে নিয়ে এসেছে। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এককালে নিজে রাস্তায় লড়েছিলেন তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান, আজ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঠিক একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের কারণে তাকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন