প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হয়েছে। শেষ হওয়ার পরেই ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে একের পর এক রেকর্ড। ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য গোল, দর্শক উপস্থিতি, ব্যক্তিগত এবং দলীয় অর্জন সহ সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ৩২টি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি একাই আটটি রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন।
মেসি সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ১৯টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে তিনি সবচেয়ে বেশি ২৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া ১৯টি ম্যাচে জয় এবং মোট ২ হাজার ৪৯০ মিনিট মাঠে থাকা নতুন রেকর্ডও তার রয়েছে।
একে অপরের মাঝে গোলের দিক দিয়ে নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেও নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে তিনি ব্রাজিলের জাইরজিনহো ও ফ্রান্সের জুস্ত ফন্টেইনের রেকর্ড ভেঙেছেন। ফলে তার গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপে অবদান ২৭টি গোলে উন্নীত হয়েছে, যা কিংবদন্তি পেলের ২১ গোল অবদানের রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে।
তবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও যোগ হয়েছে মেসির নামের পাশে। তিনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক তিনটি পেনাল্টি মিস করা খেলোয়াড় হিসাবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তিনি এবং মেসি প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার কীর্তি স্থাপন করেছেন। রোনালদো এখন টানা ছয়টি বিশ্বকাপেই গোল করা প্রথম খেলোয়াড়। তার বয়স ৪১ হওয়া সত্ত্বেও গোল করে, তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতার তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞদের তালিকায় নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ। তার বয়স ৪০ বছর ২৯১ দিন এবং তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে অধিক বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাসিস্ট করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। অন্যদিকে, জর্ডান হেন্ডারসন হয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রথম ফুটবলার, যিনি চারটি বিশ্বকাপ ও সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন।
কোচদের ক্ষেত্রেও রেকর্ডের ছড়াছড়ি ছিল। ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বাধিক ১৭টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। তিনি একই সঙ্গে একই দলের দায়িত্বে টানা চারটি বিশ্বকাপে থাকা কোচদের বিশেষ তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কার্লোস কুইরোজ পাঁচটি বিশ্বকাপে কোচিং করে বোরা মিলুতিনোভিচের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ডিক অ্যাডভোকাত ৭৮ বছর ২৭১ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রবীণতম কোচ হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। হুগো ব্রোসও হয়েছেন সবচেয়ে বেশি বয়সী জয়ী কোচ।
গোলরক্ষকদের মধ্যেও এসেছে একাধিক নতুন রেকর্ড। কেপ ভার্ডের ভোজিনিয়া ৪০ বছর পার করার পর একাধিক ক্লিন শিট রেকর্ড করেছেন এবং ইতিহাসের তৃতীয় গোলকিপার হয়েছেন। একই সাথে, সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেকের রেকর্ডও তার রয়েছে। কুরাসাওয়ের এলোয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
দলীয় অর্জনে চমক সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো এক বিশ্বকাপে পাঁচ জোড়া ভাই অংশ নিয়েছেন। কেপ ভার্ডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। তাছাড়া ১৯৯৮ সালের চিলির পর প্রথম দল হিসেবে কোনো ম্যাচ না জিতে তিন ড্র করে শেষ ষোলোতে প্রবেশ করেছে তারা।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বাধিক ১১ গোলের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটি পেনাল্টি থেকে এসেছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক। কিন্তু ঘানার বিপক্ষে ৭৮.৮ শতাংশ সময়ে বলের দখল রেখেও গোল করতে না পারার ফলে ইংল্যান্ড একটি হতাশার রেকর্ডও গড়েছে।
এছাড়া সেনেগাল দল গ্রুপ পর্বে আট গোল করে আফ্রিকার কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তারা ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র পাঁচবার বল স্পর্শ করেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। রেফারিংয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আলিরেজা ফাগানি এবং আর্জেন্টিনার সহকারী রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাত্তি। দুজনেই চারটি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করে সর্বাধিক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এই বিশ্বকাপ বর্তমানে নকআউট পর্বে প্রবেশ করেছে। গ্রুপ পর্বে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দেওয়া বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াই যত এগোবে, ততই ইতিহাসের খাতায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন সব রেকর্ডের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন