প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট নগরের রায়নগরে একটি চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আসামি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, এবং সে এ খুনের দায় স্বীকার করেছে। গ্রেফতার হওয়ার পর বাবুল পুলিশকে জানিয়েছিল যে, সে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু আদালতে এসে সে ভিন্ন কথা বলেছে।
বাবুল আদালতে জানায়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সে চুরি করতে গিয়েছিল। সে প্রথমে গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে দেখে ফেলে এবং এরপর গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকেও খুন করে। চুরি করার উদ্দেশ্যে গিয়ে বাবুল একাই ছুরি দিয়ে তিনজনকে খুন করার কথা আদালতে স্বীকার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জবানবন্দির পর এসব তথ্য জানান।
চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে বাবুল মিয়ার জবানবন্দি দেওয়া হয়। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছে, এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, চার দিনের রিমান্ড শেষে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। তারপর তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
বাবুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে। আদালত পরে বাবুলকে জেলহাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
এসএমপি পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাবুল মিয়া শান্ত ছিল। এই পুলিশ কর্মকর্তার মতে, বাবুল মিয়া তিন খুনের সাথে নিজেদের জড়িত করে বলেছে যে, আগের রাতে বাসার মালিক তার কাছে বাসা ভাড়া নিয়ে চাপ দেয় এবং বাসা ছেড়ে যেতে বলে।
সে সিদ্ধান্ত নেয়, পূর্বপরিচিত রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা 'নিকুঞ্জ ভিলা'য় চুরি করবে, যেপর্যন্ত সে বিশ্বাস করে যে সেখানে সব সময় টাকা-পয়সা থাকে। ১২ আগস্ট সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সে সেই বাসায় যায়। বাসার সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সে তা আগে থেকেই জানত। এজন্য সে বেলকনিতে উঠে খোলা কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে।
সে এই সময় একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে ছিল। কক্ষে ঢোকার সাথে সাথে তাহমিনা তার সঙ্গী হয়। তাহমিনা তাকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বাবুল তাকে ধরে ফেলে এবং উপুঢ়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে তাহমিনা মেঝেতে পড়ে যায় এবং সেখানেই বাবুল তাকে আরও আঘাত করে।
তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম কক্ষে এসে বাবুলকে ছুরির আঘাত করতে দেখে। বাবুল তখন পেছনে তাকিয়েই ছুরি চালাতে থাকে। সুরাইয়া বেগমের গলায় আঘাত লাগলে তিনিও মেঝেতে পড়ে যায়। বাবুল তাকে মারহুম করে।
একপর্যায়ে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার অন্য কক্ষে থেকে বের হয়ে আসেন। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও বাবুল খুন করে। বাবুল তার জবানবন্দিতে জানায়, তিনজনকে খুন করার পর সে তার শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করতে বাথরুমে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে সে একটি কক্ষে টাকা-পয়সা খুঁজতে যায়।
একপর্যায়ে সে ৫০০ টাকার কিছু নোট পায় এবং পরে গুনে দেখতে পায় ১৫,000 টাকা। বাসার আরও কিছু নিতে চাইলেও মোবাইল ফোন বেজে ওঠার কারণে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যায়। বাবুল মিয়া এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়।
পুলিশ কর্মকর্তার বলছে, বাবুল মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, বাসা থেকে বের হয়ে সে মেলার মাঠে গিয়ে বসে থাকে। বিকেলে বাসায় ফিরলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন