প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল এবং অপতথ্যের বিস্তারের এই সময়ে দেশর শীর্ষ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তারা এসময় বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-উৎস বারবার যাচাই করা, পেশাগত নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আজ রোববার অনুষ্ঠিত ‘মৌলিক সাংবাদিকতা ও নৈতিক প্রতিবেদন’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তাগণ এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, সাংবাদিকতা তার নিজেই একটি বন্ধুর পথ এবং নীতি-নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে কাজ করা সমানভাবে কঠিন। রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার না করে গণমাধ্যমকে সবসময় জনস্বার্থ ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
তিনি শিশু অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের সংবেদনশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উল্লেখ করেন, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে এবারেও বেশি সোচ্চার হতে হবে। তিনি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও নীতি বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান করেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভুল ও অপতথ্যের যুগে সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা।
তিনে বলেন, ‘এই এআই-এর যুগে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। এর মধ্যে কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা এবং কোনটা অপতথ্য, সেটি নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সাংবাদিকদের যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-উৎস বারবার যাচাই-বাছাই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের বড় ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। ‘ফাইভ ডব্লিউ, ওয়ান এইচ’ (কী, কেন, কোথায়, কখন, কে এবং কীভাবে)-এর মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদ প্রস্তুত ও সম্পাদনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্যের সঠিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল শক্তি।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। ভবিষ্যতে তথ্য কমিশনের নতুন রূপরেখা ও আইনগত কঠোরতা আসতে পারে, তাই সাংবাদিকদের আইন এবং নীতি-নৈতিকতার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ফেক নিউজ এবং গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ তথ্য যাচাই অথবা ফ্যাক্ট-চেক ছাড়াই বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি উপদেশ দেন অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য না নিয়ে কিংবা একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি না করার।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, ‘সত্য বলার সাহসিকতাই সাংবাদিকতা একটি মূলমন্ত্র। গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন সৎ, সত্যনিষ্ঠ এবং পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জায়গা ক্রমেই স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা দখল করে নিচ্ছে।’
দলবাজি, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা এবং তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি আদর্শ গণমাধ্যম কোনো দলে, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র অথবা এজেন্সির কাছে দায়বদ্ধ নয়; তাদের দায়বদ্ধতা কেবল জনগণের কাছে। গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, এবং জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম জানান, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের অবশ্যই রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায় সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
এই কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন