প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে নিজেদের পক্ষে নিতে চেয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী—নিউইয়র্ক টাইমসের এই দাবিকে তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। মঙ্গলবার আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদের কার্যালয় অভিযোগ করছে, জনমত বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে, তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন—এমন দাবিও নাকচ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গৃহবন্দিত্বের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং পত্রিকাটির অন্যান্য দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এটি সাজানো হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘নিউইয়র্ক টাইমস প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা এসব অভিযোগ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’
এর আগে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছিল। এমনকি তাকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ সফরের জন্য অর্থায়ন করেছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ একাধিকবার তার সঙ্গে বিদেশে ইসরায়েলি এজেন্টদের বৈঠক হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত শুরুর আগে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময়ে ইরান সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তেহরান থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে তাকে নিয়ে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাড়িটি মোসাদের এজেন্টরাই চালাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সপ্তাহে তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেন, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন