প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০২:৩৩ এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ১০:৩৮ এম
নেছারাবাদে পথচারী যুবককে প্রকাশ্যে লাথি থাপ্পড় দিল এক নারী মটরসাইকেল আরোহী, ২০ মিনিটের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ভরতকাঠি ফেরিঘাটের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে অনুপ কুমার বড়াল (২৮) নামে এক পথচারী যুবককে প্রকাশ্যে স্পর্শকাতর স্থানে লাথি ও থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা মোঃ শিহাব শেখ নামে তার ছেলে ভুক্তভোগীকে ২০ মিনিটের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী অনুপ কুমার বড়ালের বাড়ি নাজিরপুর উপজেলার গাউখালী গ্রামে। তিনি শ্রীরামকাঠি হয়ে ফেরি পার হয়ে ভরতকাঠিতে বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযুক্ত নারীর নাম নিপা বেগম। তিনি শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের ভীমকাঠি গ্রামের যুবলীগ নেতা ও বালু ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দীন শেখের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক ফাইজুল ইসলাম বলেন, ওই নারী একটি মোটরসাইকেলে এক যুবকের সঙ্গে ফেরিঘাট থেকে স্ট্যান্ডের দিকে আসছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলচালক যুবকের সঙ্গে পথচারী অনুপের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে নেমে অনুপকে সজোরে স্পর্শকাতর স্থানে লাথি মারেন। পরে অটোরিকশাচালকরা এগিয়ে গেলে তিনি অনুপের গালে চড় মারেন। এ দৃশ্য দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং কোনোমতে ওই নারীকে থামান।
ভুক্তভোগী অনুপ অভিযোগ করে বলেন, আমি ফেরি পার হয়ে ভরতকাঠিতে নেমে হেঁটে অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় একটি ছলে মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে এসে আমাকে বলেন, ‘হর্ন শুনিস না কেন, কানে কী হয়েছে? এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা নারীটি নেমে আমার স্পর্শকাতর স্থানে সজোরে লাথি মারেন। এরপরই তিনি আমার গালে চড় মারেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা তাঁদের থামিয়ে দিলে ওই নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা যুবক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় ওই যুবক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ২০ মিনিটের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন অনুপ কুমার বড়াল। তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে ওই নারী তাঁকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত নারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কে? শ্রীরামকাঠি গিয়ে জিজ্ঞাসা করে দেখেন! আমাকে সবাই চেনে। এরপর তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীকে ফোন দিলে তার স্বামী মহিউদ্দীন শেখের রিসিভ করে বলেন, আমার স্ত্রী ও ছেলে দূরে কোথাও গেছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনা সত্য হলে আমি এর বিচার করব। পরে এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি দূরে আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"