প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গারিবাবাদি উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত টানা ৪০ দিন চলার পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইসলামাবাদে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছিল। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দর অবরোধ শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে গত ৫ জুলাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ওয়াশিংটন দায়ী করে। এরপর ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
১৩ জুলাই উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং এ জলপথ ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ২০ শতাংশ হারে টোল দিতে হবে।
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদ সমঝোতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন যে, ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন