প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপুল অর্থের মালিক হয়ে গেলে জীবন বদলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কেউ বিলাসী বাড়ি কিনতে পারেন, কেউ দামি গাড়ি বা বিদেশ ভ্রমণে অর্থ ব্যয় করবেন।কিন্তু ফ্রান্সেস কনোলির কাহিনী একটু ভিন্ন।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রাক্তন সমাজকর্মী ও শিক্ষক ফ্রান্সেস ২০১৯ সালে স্বামী প্যাডির সঙ্গে ইউরোমিলিয়নস লটারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জিতেছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এত বিশাল অর্থ পাওয়ার পরও নিজেদের জন্য সবটা রেখে দেননি এই দম্পতি।
পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তারা সম্পদের একটি বড় অংশ অন্যদের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, মোট পুরস্কারের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৬৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, তারা বিভিন্ন দাতব্য কাজে দান করেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ফ্রান্সেস একটি দাতব্য ট্রাস্টও প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পরেও উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে তুলনামূলক সাধারণ জীবনযাপন করছেন ফ্রান্সেস ও প্যাডি।
তারা একটি বড় বাড়িতে বাস করেন এবং আরাম করে ছুটি কাটান। তবে অর্থ খরচের ক্ষেত্রে তারা এখনো হিসাবি। নতুন ও অত্যন্ত দামি জিনিস কেনার পরিবর্তে ব্যবহৃত বিলাসবহুল ঘড়ি বা গাড়ি কেনার ব্যাপারে তাদের আপত্তি নেই।
ফ্রান্সেসের ভাষায়, তারা আগের মতোই জীবন যাপন করছেন। তবে এখন সেই জীবনটা একটু বড় পরিসরে।
তার এই মানসিকতার পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে কিংবদন্তি মার্কিন গায়িকা ও সমাজসেবী ডলি পার্টনের দাতব্য কর্মকাণ্ড। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সেস বলেন, "মানুষ কতটা অর্থ নিজের কাছে রাখবে, তা আসলে নির্ভর করে সে জীবনে কী চায় তার ওপর।" তিনি মনে করেন, যদি কারও লক্ষ্য বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হওয়া বা ক্ষমতাবান মানুষের ওপর প্রভাব তৈরি করা হয়, তাহলে তার কাছে বিপুল অর্থ ধরে রাখার কারণ আছে। ফ্রান্সেস বলেন, "মানুষের স্বভাবের মধ্যেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।" নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিছু যখন কারও হাতে থাকে, তখন তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তবে ‘যথেষ্ট’ বলতে সবাই একই পরিমাণ অর্থ বোঝেন না বলেও মনে করেন তিনি।
লটারি জেতার সময় ফ্রান্সেসের বয়স ছিল ৫০-এর বেশি। তিনি মনে করেন, যদি আরও কম বয়সে এই অর্থ পেতেন, তাহলে হয়তো এতটা দান করার সিদ্ধান্ত নিতেন না। কারণ তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আরো বেশি চিন্তা থাকতে পারত। তবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার মতো যথেষ্ট অর্থ রেখে দেওয়ার পর তিনি নিজের কাছে অতিরিক্ত অর্থ ধরে রাখার প্রয়োজন দেখেননি। তার যুক্তি খুব সহজ—"সন্তানরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটানোর মতো অর্থ পেয়ে যায়, তাহলে তার চেয়ে বেশি অর্থ জমিয়ে রাখার অর্থ কী?" ফ্রান্সেসের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস অবশ্য লটারি জেতার পর তৈরি হয়নি।
তার দাতব্য ট্রাস্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডে বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই অন্যদের সাহায্য করার মানসিকতা ছিল তার মধ্যে। পরে কাজের জন্য ১৯৯০ সালে তিনি হার্টলপুলে চলে যান। প্রথমে ভেবেছিলেন, সেখানে হয়তো এক-দুই বছর থাকবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহরটিই হয়ে ওঠে তার দীর্ঘদিনের ঠিকানা। সেখানে ২৫ বছরেরও বেশি সময় বসবাস করেছেন তিনি। কুইন্স ইউনিভার্সিটি ছেড়ে নতুন শহরে যাওয়ার সময়ও মানুষের পাশে থাকার সেই মূল্যবোধ সঙ্গে করে নিয়েছিলেন ফ্রান্সেস। নতুন এলাকার মানুষদের বড় পরিসরে সাহায্য করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন।
ফ্রান্সেসের ৬০তম জন্মদিনও তাই শুধু নিজের উদ্যাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্কাই নিউজ জানিয়েছে, জন্মদিন উপলক্ষে সাতজন ক্রীড়াবিদ কয়েকটি চ্যালেঞ্জে অংশ নেবেন। এসব আয়োজন থেকে ফ্রান্সেস ও প্যাডির দাতব্য সংস্থা পিএফসি ট্রাস্টের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে। লটারি থেকে পাওয়া সেই বিপুল অর্থ হয়তো ফ্রান্সেসের জীবনকে আর্থিকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু অর্থ পাওয়ার পর তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্যদের জীবন একটু সহজ করে দেওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন