প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আশা প্রকাশ করেছেন যে, চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে।
তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাথে চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ছয়টি সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে আমরা দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনতে পারব বলে আস্থাবান।’
গত বৃহস্পতিবার, চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে, যার মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের স্পিকারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে সম্মান ও গুরুত্ব পেয়েছি এবং যে আলোচনা হয়েছে, তাতে আমরা আশাবাদী যে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আমাদের দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মর্যাদা ও সম্মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটা প্রথম বিদেশ সফর। চীনের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমরা মুগ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলের প্রতি চীনের যে আন্তরিকতা, তা প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশের জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।’
মন্ত্রী যোগ করেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক গুণগতভাবে নতুন যুগে প্রবেশ করবে। যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এবং যা বিকশিত হয়েছিল আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে- তা এখন আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক নতুন স্তর অতিক্রম করতে যাচ্ছে। এই মন্তব্য শুধু আমার নয়, স্বয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১২ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন।
চার দিনের চীন সফরের প্রথম দুই দিন তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বুধবার, তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যান।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন।
এছাড়া, তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই সব বৈঠক হয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট ভবন ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহাদী আমিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন