প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দেখা দেওয়া বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ নভোচারীকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। শুক্রবার তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি মহাকাশযানে অবস্থান করেন এবং প্রয়োজনে স্টেশন থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
একই সময়ে, স্টেশনের রাশিয়ান অংশে একটি ফাটল মেরামতের চেষ্টা চলছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং নভোচারীদের আবার মহাকাশ স্টেশনে ফিরে যেতে বলা হয়। নাসা ঘোষণায় জানিয়েছে যে, শুক্রবার সকালে তাদের মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পাঁচ নভোচারীকে স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানে যেতে নির্দেশ দেয়। এই ব্যবস্থা সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নেওয়া হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। এ সময় নাসা এবং রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের কর্মকর্তারা স্টেশন থেকে কত দ্রুত বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রধান দুই অংশীদার, নাসা ও রসকসমস, কয়েক মাস ধরে স্টেশনের রাশিয়ান অংশে অবস্থিত জভেজদা সার্ভিস মডিউলের বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছে। জভেজদা মডিউল মহাকাশ স্টেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ অংশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কয়েক বছর ধরে এই অংশে ছোট ছোট ফাটল এবং বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। রসকসমস জানিয়েছে যে, তাদের বিশেষজ্ঞরা দুটি লিক বা বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার স্থান শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে একটি দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। অন্যটির বন্ধ করার প্রস্তুতি চলছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, এই সমস্যা নভোচারীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি। স্টেশনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েনি।
নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। তবে শুক্রবার বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড বাতাস বের হচ্ছিল। শুক্রবার তা বেড়ে প্রতিদিন দুই পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়। এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দুটি মিশনের মোট সাতজন নভোচারী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ক্রু-১২ মিশনের চার সদস্য ফেব্রুয়ারিতে স্টেশনে পৌঁছান। তারা হলেন নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী সোফি আদেনো এবং রসকসমসের মহাকাশচারী আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভ। এ ছাড়া নভেম্বরে পৌঁছানো আরেকটি দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন মার্কিন নভোচারী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস এবং রাশিয়ার দুই মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সভারচকভ ও সের্গেই মিকায়েভ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ক্রু-১২ দলের চার সদস্য এবং ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস ছিলেন।
নাসার ওই কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার দুই মহাকাশচারী কুদ-সভারচকভ ও মিকায়েভ ফাটলের সম্ভাব্য অবস্থানে পৌঁছাতে একটি করাত ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে নাসার কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল। তারা মনে করেন, কাজ চলার সময় ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই হিউস্টনের মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নভোচারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। পরে রসকসমস সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ বন্ধ করলে নাসা নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ প্রত্যাহার করে। নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স বলেন, বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে রসকসমসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে নাসা।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ বের করা একটি বিরল ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশের আবর্জনার সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা এবং বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার মতো প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এমন জরুরি প্রটোকল চালু করা হয়েছে। স্টেশনের ২৭ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নভোচারীকে জরুরি কারণে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যকাল আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। তারা সিনেটের বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও পরিবহন বিষয়ক কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য। আইনপ্রণেতারা বলছেন, মহাকাশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে স্টেশনটির কার্যকাল বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নেতারা প্রস্তাবিত বিল নিয়ে ঐকমত্যে পৌছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন