প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৫ বছরের মধ্যে ৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে চলতি মৌসুমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (কক্সবাজার দক্ষিণ) ডিএফও’র পর্যবেক্ষণে টেকনাফ ও উখিয়ায় ২৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ১শ টি বৃক্ষ রোপন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ১শ ৩ হেক্টর বনভূমিতে নতুনভাবে গাছ রোপনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য অনেক গুরুত্বপূণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দ্বারা বন, বনভুমি এবং বন্যপ্রাণীর যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা করছি।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটে ২০ হেক্টরে ৫০ হাজার, হ্নীলা বিটে ৬০ হেক্টরে ১ লাখ ৫০ হাজার ও মধ্য হ্নীলা বিটে ১শ হেক্টরে ২ লাখ ৫০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। শীলখালী রেঞ্জের শীলখালী সদর বিটে ৪০ হেক্টরে ১ লাখ, মাথাভাঙ্গা বিটে ৪০ হেক্টরে ১ লাখ গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়া হোয়াইক্যং রেঞ্জের হোয়াইক্যং বিটে ১শ ৯০ হেক্টরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার, মনখালী বিটে ৩০ হেক্টরে ৭৫ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
অপরদিকে উখিয়া উপজেলার উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটে ১শ ৫০ হেক্টরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার, দোছড়ি বিটে ৫০ হেক্টরে ১ লাখ ২৫ হাজার ও উখিয়া সদর মধুরছড়া বিটে ৬০ হেক্টরে ১ লাখ ৫০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। রাজারকুল রেঞ্জাধীন উখিয়া উপজেলার পাগলিরবিল বিটে ৫০ হেক্টরে ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইনানী রেঞ্জের রাজাপালং বিটে ৫০ হেক্টরে ১ লাখ ২৫ হাজার, জালিয়াপালং বিটে ৫০ হেক্টরে ১ লাখ ২৫ হাজার ও ইনানী সদর বিটে ৫০ হেক্টরে ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।
চোয়াংখালী বিটে ৯০ হেক্টর বনভূমিতে ২ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় বন বিভাগের আওতায় চট্টগ্রামের টেকনাফের হ্নীলা বিটের জাদীমুড়া থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত বাঁধ বনায়নে ১ লাখ ও চৌধুরীপাড়া এলাকায় ১ লাখ ১১ হাজার ১শ টি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপনের কাজ চলমান রয়েছে।
বনবিভাগ জানায়, অর্জুন, হরতকি, বহেরা, চিকরাশি, জারুল, কাজলভাদী, গর্জন, সিভিট, পলাশ, বকুল, সিলকড়ি, চাকুয়া, কড়ই, সেগুন, গামার, ধরমারা, সোনালো, কৃষ্ণচুড়া, ছাতিয়ান, কাঞ্চন, বুদ্ধ নারিকেল, শিমুল, বক্সবাদম, কাঠবাদাম, আমলকি, জলপাই, কালোজাম, পুতিজামসহ ৫৬টি বিপন্ন প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদের চারা রোপন করা হচ্ছে। বনবিভাগ সূত্র জানায়, সৃজিত বাগানগুলো দীর্ঘ মেয়াদী হবে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বে কাঠুরিয়াদের মাধ্যমে পাহাড় থেকে কাঠ বা লাকড়ী সংগ্রহ করা হতো। এসব কাঠ স্থানীয়রা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতেন। তবে কালের পরিবর্তনে কাঠ বা লাকড়ীর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। আধুনিক যুগের কারণে মানুষ এখন গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানী ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের মতে, ২০১৭ সালে টেকনাফ-উখিয়ায় লাখ লাখ রোহিঙ্গার আগমনে বনাঞ্চল অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন কারণে টেকনাফ-উখিয়ার পাহাড়গুলো দেখা দিয়েছে আতঙ্কের নাম। এখানকার বনাঞ্চল প্রান্তীক কৃষকদের জন্যও ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাহাড়গুলো নির্জন হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে এবারের সৃজিত বাগানগুলো অক্ষুণ্ন থাকবে এবং দীর্ঘ মেয়াদী হবে। মানুষ দিন দিন সচেতন হচ্ছেন এবং সবুজ বনায়নে আগ্রহ একেবারেই বাড়ছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। বনবিভাগের উদ্যোগে টেকনাফের বনাঞ্চলে ১২ লাখ চারা রোপনের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদ্যোগেও ১০ হাজার চারা রোপন করা হয়েছে।
ফলজ, বনজ ও ওষুধী গাছগুলো বড় হয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বনাঞ্চলে সৃজিত বৃক্ষরাজি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। কক্সবাজার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী ১ হাজার ১শ ৩ হেক্টর বনভূমিতে ২৭ লক্ষ ৫৬ হাজার বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। প্রাপ্তির পর সঠিক পরিচর্যা দ্বারা সৃজিত বৃক্ষরাজি রক্ষায় বনবিভাগ কাজ করবে। রোহিঙ্গাদের কারণে বনভূমিতে হওয়া ক্ষতির পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদী কৃষি বাগান বাঁধ ও গাছগুলো পরিবেশের উপকারে আসবে। ভবিষ্যতে এটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন