প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান নাঈমকে এ সময় বলেন, ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণের পর চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।
নাঈম হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। যখন তিনি লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছান, ডিবি পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ি রোধ করেন এবং তাকে নামিয়ে নেন জিজ্ঞাসাবাদের নামে।
তিনি আরো জানান, প্রথমে তার পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হয়। এক পর্যায়ে, সাদা পোশাক পরা একজন ব্যক্তি এবং পুলিশের পোশাক পরিহিত দুই সদস্য তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানানোয় তাকে মারধর করা হয় এমনটাই অভিযোগ করেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।
নাঈম হাসান বলেন, গলা টিপে ধরে বলা হয়, তুই আসামি, কথা বলবি না। বারবার বলা সত্বেও তারা তার পরিচয় শুনতে চায়নি। তার দাবি, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও হেনস্তা বন্ধ হয়নি এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা। চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর নাঈম বর্তমানে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় রয়েছেন।
২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিনার বলেন, প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলছিল, তার ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আসছিলেন তিনি, ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে তার সিএনজি দাঁড় করানো হয়, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নেওয়া হয়। তিনি পুলিশকে বলেছিলেন, আপনি আমার ব্যাগ চেক করুন।
নাঈম বলেন, তাকে গলা চেপে ধরে বলা হয় তুই গাড়িতে উঠ। এই বলে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। তিনি বলেন, পুলিশকে বললাম, আমার গলা টিপে ধরছেন কেন? বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর পুলিশ তাকে মারধর করে এবং হেনস্থা করে। তিনি জানান, পুলিশ সদস্য ছিলেন দুজন, অন্য একজন ছিল পাঞ্জাবি পরা। সে পরিচয় দেয়নি কিন্তু পাইপ দিয়ে মারছিল। পরে সেখানে ১০০-২০০ মানুষ উপস্থিত হয়, তারা তার পরিচয় দিয়েছে তাও সিরিজের পুলিশ মারছিল।
পরে নাঈমকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি। গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, থানায় নেবার কথা বলা হয়। এরপর তাকে ব্যাগসহ থানায় নিয়ে এসে বলা হয় স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত পুলিশ ও আর্মি আমাদের ডেকে নামলে তিনি নামেন, কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্স তাকে মারছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মারছে। তিনি বলেন, তিনি সুষ্ঠু বিচার চান। এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কোন কিছু নেই। তিনি বলেন, আজকে তাকে মারছে, অন্য দিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর এই ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় নাঈমকে। মোবাইল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তামিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি পরে ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, বাবার সঙ্গে কথাও বলছিলেন। এটাকে বিচার হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার দাবি করেন, পুলিশের গাড়ি তো সেখানে ছিল। গাড়িতে না তুলে সিএনজিতে করে তাকে কোথায় নিয়ে যেতো? তার বিদ্যমান অবস্থানে যদি সাধারণ মানুষ থাকতো, তা হলে কেউ আসতেন না, একশ-দেড়শ মানুষ কেন কোশ্চেন করতো না। পুলিশ যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে তবে আর লাভ কী!
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, উনি (নাঈম হাসান) ন্যায় বিচার পাবেন। তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এই ব্যাপারে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবেন। কারণ এটি পুলিশের ইমেজের সঙ্গে জড়িত। তারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নের সঙ্গে কাজ করছেন এবং বর্তমানে কোনো কিছুই টলারেট করবেন না।
উল্লেখ্য, নাঈম হাসান জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন গত পাঁচ বছর ধরে। তিনি আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলেও আছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন