প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি করেছ, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর পুলিশি পোশাক পরা একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী আলমগীর হোসেন মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে এবং তিনি নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ সাত বছর ধরেই তিনি লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত আলমগীরের ভাই জিল্লুর রহমান, যিনি নিজেও লিবিয়ায় থাকেন, জানান যে আলমগীর হোসেন ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর যখন তিনি ডিউটিতে ছিলেন, তখন পুলিশি পোশাকে সন্ত্রাসীদের একজন তার মোবাইলে ফোন করে এসে দূরে নিয়ে যায়। এছাড়া, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় ৩১ বাংলাদেশিকে জিম্মি করা হয়েছিল।
জিল্লুর বলেন, ‘ওই আস্তানা থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ৫ জন মুক্তি পেয়েছেন। আমার ভাইয়ের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবী করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) দুতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পারা গেছে। তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবির মাধ্যমে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেনি। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এদিকে, আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্বজন ও এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন