প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের অর্থের মাধ্যমে মসজিদ, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রকল্পের কথা থাকলেও নির্ধারিত কাজটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করেই নামফলক স্থাপন ও আংশিক কাজ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক, একটি মসজিদ এবং একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রকল্প সভাপতি করে কাজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়নের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল। পরিদর্শনের সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের পরিমাপ এবং বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করেন। পরিদর্শনের সময় নেওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একটি ভিডিওতে ইউএনও রুপার মোড় খান বাড়ির সামনের ব্রিজ থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত মাটি ও ইটসলিংয়ের কাজ পরিমাপ করছেন। ওই প্রকল্পের সভাপতি হলেন এনামুল হক। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ টাকা। একই এলাকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপার জোর গ্রামের করম আলী খান বাড়ির পূর্ব পাশ থেকে রুপার মোড় খেয়াঘাট পর্যন্ত মাটির কাজ ও ইটসলিংয়ের জন্য আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যেখানে প্রকল্পের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান।
স্থানীয়দের দাবি, দুটি সড়কের জন্য মোট ৬ লাখ টাকার বরাদ্দে ১ হাজার ২০০ ফুট সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও পরিমাপের সময় দেখা গেছে প্রায় ৮৩০ ফুট কাজ হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের তুলনায় কম কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে, ওই সড়কে নামফলক দুটি স্থানে স্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে।
নির্বাহক সময় খাস মহেশপুর এলাকাতেও বরাদ্দের তুলনায় আংশিক কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্পেও নির্ধারিত কাজের পুরোটা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, সেটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, রুপার জোর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করার সময় দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ছাদের কিছু অংশে টিন পরিবর্তন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুব সীমিত পরিসরে কাজ করে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ মধ্য মহেশপুর হাওলাদার বাড়ির বায়তুল নূর জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠ, অজুখানা ও টয়লেট মেরামতের প্রকল্প নিয়ে উঠেছে। এ প্রকল্পে ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ থাকলেও সেখানে শুধু ঈদগাহ মাঠে বালু ভরাটের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই কাজে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। অথচ প্রকল্পের নামফলক স্থাপন করে কাজটি বাস্তবায়িত হিসাবে দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি অর্থে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কোথাও আংশিক কাজ, কোথাও সামান্য সংস্কার এবং কোথাও শুধু নামফলক স্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যা সরকারি বরাদ্দের অর্থের যথাযোগ্য ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মসজিদ, সড়ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের প্রকৃত ব্যয়, কাজের পরিমাণ ও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি তদন্তের দাবি জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, সরকারি বরাদ্দের প্রকল্পগুলোর সভাপতি রয়েছেন। কাজের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, আমি কাজের বিষয়ে খোঁজখবর রাখি না।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের কাজ শেষ না হওয়ার আগেই নাম ফলক বসানোর নিয়ম নেই। আর যদি নাম ফলক বসানো হয়, তখন কেন সঠিক পরিমাণে কাজ করা হয়নি, তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নের সরকারি বরাদ্দের প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, কাজের পরিমাণ, ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন