প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দাম কমতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি চারটি ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার ক্রয় করে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ডলার কেনার কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, মঙ্গলবার সকালে ডলারের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স হাউজ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা দরে ক্রয় করছিল। আমদানি দায় বা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে।
সরবরাহ বাড়ায় কমছিল ডলারের দাম
ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপও আগের তুলনায় কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুর্বল থাকায় আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও কমে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দাম কমে যাচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আরও কমে যাওয়া প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কিছু অর্থ পরিশোধের সময় আসায় ডলারের চাহিদা আবার কিছুটা বাড়তে পারে বলে একটি ব্যাংকার জানিয়েছেন।
নিলামের তথ্য জানানো হয় দুপুরে
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ডলার কেনার বিষয়টি জানানো হয়। সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে জানানো হয়ে থাকে। ফলে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এলসি নিষ্পত্তি করে। একইভাবে রেমিট্যান্সের ডলারও কম দামে কেনা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর বিকেলে বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তখন কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক রেমিট্যান্সের ডলার কেনার পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দর নির্ধারণ করে।
১৫ দিনে ডলারের দরে বড় ওঠানামা
ব্যাংকারদের মতে, গত দুই সপ্তাহে ডলারের দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা ঘটেছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দাম নেমে এসেছিল ১২২ টাকায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ডলারের দামে প্রায় দেড় টাকার ওঠানামায় ব্যাংকার, আমদানিকারক ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক গ্রাহক ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ডলার সংগ্রহের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এক ব্যাংকার জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনার তথ্য আগে জানালে সকালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এত কম দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনত না কিংবা এলসি নিষ্পত্তিও করত না। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ডলারের দাম আবার কমতে শুরু করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন বাজারে হস্তক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলারের একটি সম্ভাব্য নিম্নসীমার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে ব্যাংকাররা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন