প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লি চীনা কোম্পানির জন্য দরপত্র উন্মুক্ত করেছে।
ভারতে কারখানা রয়েছে এমন চারটি চীনা বিদ্যুৎ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দেশটি দুই বছরের একটি বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতের অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে বলা হয়েছে, দেশটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক উন্নত করার লক্ষ্যে এবং সরঞ্জামের ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী টিবিইএ এনার্জি, নানজিং ইলেকট্রিক ইন্ডিয়া, নিউ নর্থইস্ট ইলেকট্রিক ইন্ডিয়া এবং তাইকাই ইলেকট্রিক ইন্ডিয়া সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছিল। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সংযোজন বাড়াতে ভারতের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে যেকোনো সরকারি চুক্তিতে অংশ নেওয়ার আগে চীনা দরদাতাদের জন্য একটি সরকারি প্যানেলের কাছে নিবন্ধন করা এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
তবে চলতি বছরে সীমান্ত উত্তেজনা কমে আসায় ভারত সরকারি কাজে চীনা দরদাতাদের ওপর আরও ব্যাপক শিথিলতা আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ আদেশ জারির তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এটিকে অন্য কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের ঘটনার পর ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর কোনো সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। বরং নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ভারত একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। যেখানে বিভিন্ন অ্যাপ নিষিদ্ধ করা, বিনিয়োগ যাচাই-বাছাই এবং নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
‘লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসি’-র একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান ২০২৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে এর পর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার গতি বাড়ালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি বা বরফ গলার লক্ষণ দেখা দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন