০২:৪৯ পি.এম
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। র্যাব জানিয়েছে, মামলার পর ওই শিক্ষক গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে যাওয়া ছিল।
বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪ প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৪'র অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেছেন, গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত আমানউল্লাহ সাগর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি মুঠোফোনও ব্যবহার করেননি। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়র বাড়িতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী গ্রেফতার
র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাকে বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
শিশুটির আত্মীয়স্বজন, মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, অভিযোগকারী ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করছিল। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থবোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এরপর তার মা সিলেট থেকে ফিরে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বিষয়টি জানতে পারেন।
পরে, গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) অভিযুক্ত শিক্ষকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এদিকে, শারীরিক পরীক্ষা ও নিরীক্ষার মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর র্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, চিকিৎসককে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা অবগত আছেন। তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া, একটি ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়।
আরও পড়ুন: তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আলেয়ার লক্ষ্য বিশ্বজয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন