প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আলী হোসেন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মধ্যনগর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি। প্রকাশিত সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলী হোসেন জানান, গত ৬ আগস্ট দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকাতে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং তার সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদটি ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
আলী হোসেন বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিনের বক্তব্যও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অধ্যক্ষের কথোপকথন বা কল রেকর্ডের বক্তব্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, সংবাদটি প্রকাশের আগে তার বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি এবং সংবাদ প্রকাশের পূর্বে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এর ফলে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক হিসেবে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
“সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জাতির দর্পণ। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।” এ সময় তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিন বলেন, লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিবছর ভালো ফলাফল করে এবং এটি শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে কাজ করছেন।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক আতাউর বাশার তাকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় অফিসে আসতে বলেছিলেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিক অফিসে না এসে তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন এবং এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান অধ্যক্ষ।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আলী হোসেনের লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার অবদানের কারণে একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার চেষ্টা করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন জানান, “মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তিনি প্রশাসনের কাছে প্রকাশিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবু তাহের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক দল। দলের উপজেলা সেক্রেটারি আলী হোসেনকে জড়িয়ে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাংলা প্রভাষক সাইদুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক আলামিন, অফিস সহকারী সুমন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল মুসাব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট আলম, দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু হানিফা, মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন সভাপতি কবির শাহ, চামরদানী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু তাহেরসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন