প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
এদিকে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, খুনিরা মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে তাঁদের ছাদে আসে। তখন ওই দুজন ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল। এরপর গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাদের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। তার চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, মায়ের চিৎকারে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রতির গলায়ও গামছা ও রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা তথ্য দিয়েছে যে, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না এবং সেই সময় তাদেরকে রশি দিয়ে ধরে রাখতে সময় লেগেছিল। সবশেষে, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকা অবস্থায় তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সেগুলো নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্তদের দেখানো অনুযায়ী সেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যার তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে। তারা এটি ডাকাতি মনে করার জন্য পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। এছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন