প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারো চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মোহাম্মদ আজাদ (৩০) নামের একজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের নিকটে কলেজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের যাত্রী আকিব জাবেদ জানান, আহত মোহাম্মদ আজাদ সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন পারাবত এক্সপ্রেসের ‘ঢ’ বগিতে। ট্রেনটি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পূর্বমুহূর্তে কলেজপাড়া এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন বাইরের থেকে ছোড়া একটি পাথর জানালার কাঁচ ভেঙে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ট্রেনের ভেতরেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। পরে তার সহযাত্রীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এই ঘটনার পর পুরো ট্রেনজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়। তথাপি, দুষ্কৃতকারীরা এই ধরনের অপরাধ করে চলেছে। রেলওয়ে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু করেছে।
এর পূর্বে, গত ২১ জুন রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসে পৈরতলা এলাকায় বাইরের থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে নাইমুল হাসান নামে একজন যাত্রী আহত হন। গুরুতরভাবে জখম হওয়ায় তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছিল।
একইভাবে, গত ২৪ জুন রাতে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একটি ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। পাথরের আঘাতে তার ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
একেবারে পর পর চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনার কারণে রেলযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। যাত্রীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন