প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি। ফলে এ খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
সম্প্রতি সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে ঘিরে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক প্রভাব, কমিশন গ্রহণ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিবেশ তৈরি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হতো যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়।
সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী, সব সরকারি ক্রয় প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ হওয়ার কথা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং ই-জিপি রেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সওজের একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের আগে কমিশন দেওয়ার চাপ থাকত। অভিযোগকারীদের দাবি, কমিশন ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের অগ্রগতি ব্যাহত হতো।
নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ> কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে অনেক সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রকল্পের পরিমাপ বই (Measurement Book), ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট, গুণগত মান পরীক্ষার নথি এবং অডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, গত এক দশকে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব সম্পদের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবনের বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং সম্ভাব্য বিদেশি সম্পদের বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এ ছাড়ও কিছু অভিযোগপত্রে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট, উন্মুক্ত দরপত্র, ডিজিটাল নজরদারি এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন