প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অফিস টাইম চলছিল। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থাকার কথা ছিল। এদিকে সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে তিনি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় কিছু সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখার পর প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদানকারী সেই চিকিৎসক দৌড়ে পালিয়ে যান। হাতেনাতে ধরা পড়ে তিনি পালাচ্ছেন, এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাইরাল হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ার ফলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) পদে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন। ঠিক তখনই কয়েকজন সাংবাদিক তাকে দেখতে পায় এবং ভিডিও ধারণ করেন। চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তিনি, তবে যখন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পান, তখন তিনি চেয়ার থেকে উঠেই ভোঁ দৌড় দেন এবং বেরিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বের হয়ে আসতে দেখে। তার পেছনে কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসক তার মোবাইল বের করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন এবং জানান তিনি নামাজ পড়তে এসেছেন। পরে জানা যায়, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লেখেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকরি করেন, অথচ নিয়মিত থাকেন না। অফিস টাইমে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে পাওয়া যায়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এভাবে চিকিৎসকদের রুখে দিতে হবে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ মুঠোফোনে সময় সংবাদকে জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ডা. ইনজামাম উল হক চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও বলেন, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল এই সম্পূর্ণ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটি নিছক সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে জানান।
এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ম্যাসেজেরও তিনি উত্তর দেননি। অন্যদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন। (Admin post)
এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে সময় সংবাদকে বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন