প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের আকস্মিক বন্যার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান মেলেনি। স্বজনদের অপেক্ষার সময় যত দীর্ঘ হচ্ছে, উদ্বেগও ততই বাড়ছে। উদ্ধারকাজে দেরি হওয়া নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
নুওয়াকোটের আপার ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা পড়েছেন জিবলাল অধিকারী। বুধবার সকালে কাজ শুরু করার আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮৯৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
আপার ত্রিশূলি ৩এ প্রকল্পে বন্যার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজের শুরুতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
শনিবার নেপালের অনুরোধে চীন থেকে নয়জন বিশেষজ্ঞ টানেল উদ্ধারকারী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর কাজ শুরু করেছেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বাসনেত জানিয়েছেন, ড্রিলিং মেশিন, খননযন্ত্র ও হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সেখানে প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি টানেলের ভেতরে পানি পাওয়া গেছে।
টানেলের ওপরের অংশ ভেদ করে উদ্ধারকারীরা ভেতরে প্রবেশ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ দ্রুততর করতে বড় সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রস্তুতিও চলছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা শ্রমিকদের কাছে অক্সিজেন ও পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৩৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজদের মধ্যে কতজন টানেলের ভেতরে আটকা এবং কতজন বন্যা বা ভূমিধসে নিখোঁজ হয়েছেন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনেরা বলছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতরে পৌঁছানোর পর প্রকৃত পরিস্থিতি না জানা পর্যন্ত তারা আশা ছাড়বেন না।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন