প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের কার্যকর সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকার প্যারেন্ট সার্কেল ও বন্ধু রেজিস্টার কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সচেষ্টতার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটিকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এক মতবিনিময় সভায়, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ বিষয়ক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু বিদ্যালয় ও শিক্ষকের দায়িত্ব নয়; একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত শক্ত করার জন্য প্রয়োজন পরিবার, বিদ্যালয় এবং কমিউনিটির সম্মিলিত ভূমিকা। এই কারণে অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে প্যারেন্ট সার্কেল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি অভিভাবকদের সুযোগ দেবে শিশুদের পড়াশোনা, উপস্থিতি, আচরণ, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বিকাশের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মতবিনিময় করার।
তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যালয়কে কমিউনিটির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে বন্ধু রেজিস্টার কার্যক্রমও শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় পর্যায়ে যারা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তাদের একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি সহযোগিতামূলক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি শিশুর জন্য ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু ভালো শিক্ষকই প্রয়োজন নয়; প্রয়োজন সহযোগিতাপূর্ণ পরিবার, সচেতন কমিউনিটি এবং দায়িত্বশীল বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষায় এই তিনটি স্তরের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাটা জরুরি।
তিনি আরো জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শুধুমাত্র পাঠদানের জায়গা হিসেবে না দেখে বরং শিশু, অভিভাবক এবং কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা আছে।
ববি হাজ্জাজ আরো জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় মানে শুধু চার দেয়ালের একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কেন্দ্র। ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে অভিভাবক এবং সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও উন্নয়ন সহযোগীদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি শেষ করেন, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ तथा কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে 'প্যারেন্ট সার্কেল' ও 'বন্ধু' রেজিস্টার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা হয় প্রাথমিক শিক্ষায় কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো, অভিভাবকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক সহযোগিতা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে।
সভায় অংশগ্রহণকারী এনজিও প্রতিনিধিরা সরকারের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন