প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
'গাড়ি উল্টে' ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবারজাদেহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কাজ করা রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি ও অন্যান্য রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে যে, কেরমান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি সড়কে তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ইয়াজদ থেকে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা তাকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ এবং কী পরিস্থিতিতে এটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। আকবারজাদেহর মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম ও ইরানবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
মোহাম্মদ আকবারজাদেহ একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন আইআরজিসি নৌবাহিনীতে। রাজনৈতিক উপপ্রধান ও মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিতভাবে তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করতেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের অবস্থান এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন। চলতি বছরের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আকবারজাদেহর মৃত্যুর খবর এসেছে একেবারে সেই সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইআরজিসির নৌঘাঁটি, উপকূলীয় স্থাপনা, ড্রোন, হরমুজ প্রণালির কাছের তেলবাহী জাহাজ ও পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি নিয়ে নতুন মতো উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পর কিছু বিশ্লেষক এবং ইরানের বিরোধীপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অ্যাকাউন্ট ঘটনার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটি 'রহস্যজনক' এবং এটি হামলায় মৃত্যু ঘটনার আড়াল করতে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। তাদের মতে, যদি কোনো জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়, তাহলে তাকে দুর্ঘটনা হিসেবে তুলে ধরলে পাল্টা সামরিক জবাব দেওয়ার চাপ কমানো সম্ভব। কিছু প্রতিবেদনে জানা গেছে, অতীতে ইরান সংবেদনশীল কিছু মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন।
তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা অন্য কোনো সূত্রও কোনো তথ্য দেয়নি যে মোহাম্মদ আকবারজাদেহ হামলা বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ইরান সরকারও সড়ক দুর্ঘটনার সরকারি তথ্যের বাইরে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বা তার মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন