প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে। তবে, শুধুমাত্র কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করলেই হবে না, বরং পুরো জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুতের সঙ্গে কারখানার তাপ উৎপাদনের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। যদিও পোশাক কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও বাস্তবিক ব্যবহারে এখনও এর পরিমাণ কম।
সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতকে অধিক জ্বালানি-সাশ্রয়ী করতে মেশিন পরিবর্তনে প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৬০৪ কোটি থেকে ১৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ। যদি সোলার বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব হবে।
গবেষণায় বলেছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পথে নিতে, কোনো একটি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ধাপে ধাপে অর্থায়ন, প্রযুক্তি পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রিত কর্মসূচির সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এর ফলে পরিবেশগত উন্নতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
অামারানী দিনের জন্য, গ্যাসের নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
গবেষণার পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কাটিং ও সেলিং সেকশনে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া সম্ভব, তবে ওয়াশিং সেকশন গ্যাসের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে অগ্রগতি থেমে আছে। এ সব ক্ষেত্রের জন্য ইলেকট্রিক বয়লার ব্যবহৃত হতে পারে। আগামী দিনে গ্যাসের সরবরাহ লাভ করা কঠিন হবে, তাই ধাপে ধাপে জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন করে বিদ্যুতের দিকে যেতে হবে। এলএনজি দিয়ে এ খাতে স্থায়ী সমাধান আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও সেই অর্থ পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। একইসাথে কারখানায় কোথায় সবচেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অন্যান্য দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বেশি হলেও বাংলাদেশে তা ৬ থেকে ৭ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও সেই অর্থ গ্রহণ করা কঠিন। কারখানায় কমপ্রেশারে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ হয়, তাই এদিকে নজর দেয়া উচিত।
তবে বড় শিল্পে সব ধরনের জ্বালানি ব্যবস্থা একসাথে বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব নয় বলেও মত দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে বড় বয়লার বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, ৬০ টনের বয়লার কোনোভাবেই বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তবে রুফটপ সোলার একটি ভালো সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যায়। উদ্যোগগুলো শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, এখনই পোশাক খাতের জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন