প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালীতে, উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নং জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী মাত্র ৭ জন, এবং বিপরীতে এখানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবে তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সবমিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাঠদান করছে।
এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এরিয়া ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যালয়টির চারপাশে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের পাশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়টিতে আগে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। তবে এখন লেখাপড়ার মান আগের মতো নেই বলে অনেকেই তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন। অভিভাবকদের মতামত হলো, ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে পুনরায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
বিদ্যালয়টি উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। অনেক পরিবার শহরমুখী হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখানে কমে গেছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাতী রানী বলেন, "আমাদের সময় বিদ্যালয়টিতে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। লেখাপড়ার মান উন্নত হলে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে শিক্ষার্থী সংখ্যা আবার বাড়বে বলে আমি মনে করি।"
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার বলেন, "আমরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছি। যদিও শিক্ষার্থী সংখ্যা কম, তবুও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি আলাদা নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। আমি আশা করছি, ওই পদটি পূরণ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুর রহমান বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত পাঠদান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে পুনরায় শিক্ষার্থীমুখী করার চেষ্টা চলছে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কম থাকার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন