প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের হল ফি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বকেয়ার পরিমাণ ৭২ লাখ টাকার বেশি। বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় করা নিয়ে হল প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন আবাসিক হলে জমা বকেয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক হলে, যেখানে শিক্ষার্থীদের বকেয়া পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে শহীদ লে. সেলিম হলে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ টাকা, শহীদ আব্দুল হামিদ হলে ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ১১ লাখ টাকা বকেয়া আছে।
অন্যদিকে, শহীদ শহিদুল ইসলাম হলে প্রায় তিন লাখ ৬৭ হাজার টাকা, ছাত্র হল-১-এ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা, টিনশেড হলে গত তিন থেকে চার মাসে গড়ে দুই লাখ টাকা এবং ছাত্রী হল-২-এ প্রায় এক লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। ছাত্র হল-২ থেকে এতদিনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ছাত্রী হল-১-এ কোনো বকেয়া নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
হল প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করলেও একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে হল ফি বকেয়া রেখে দিচ্ছে। এ কারণে বকেয়ার পরিমাণ দিনে দিনে বাড়ছে, ফলে হল পরিচালনার বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে সব হলে নোটিস দেওয়া হয়েছে। পরে কিছু শিক্ষার্থী তাদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। হলের নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বকেয়া রাখার সুযোগ নেই, কিন্তু বাস্তবে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বকেয়া দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ সমস্যা সমাধানে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হলে বেতন বকেয়া থাকলে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন সুবিধা বাতিলের বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। আগামী মাস থেকেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন হল কুপন এবং সব ধরনের পেমেন্ট অনলাইনে চালু হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বকেয়া রাখার সুযোগ থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাই সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে হল ফি পরিশোধ, কুপন সংগ্রহ এবং নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বকেয়া আদায় অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি বকেয়াসংক্রান্ত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং এত দীর্ঘদিনের বকেয়া জমে থাকার প্রবণতা কমে আসবে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বিদ্যমান নীতিমালার বিধান অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী যদি তিন মাসের বেশি সময় হল ফি বকেয়া রাখে, তাহলে তার আবাসিক সিট বাতিল হবে। তবে বাস্তবে দীর্ঘদিন এ বিধান কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে উদাসীন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের মতে, নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন