প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ব্যবহার করেন। বিপুল ব্যবহারকারীর কারণে এটি এখন সাইবার প্রতারকদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। প্রতারণার ঘটনা যেমন ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং লিংক, লটারির প্রলোভন বা বিনিয়োগের নামে প্রতারণা তা নিয়মিত ঘটে আসছে। অনেক সময় একটি ভুল ক্লিকের কারণে ব্যক্তি নিজস্ব তথ্য হারাতে পারেন অথবা ব্যাংক হিসাবের অর্থও হারাতে পারেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অপরিচিত নম্বর থেকে বার্তা এলে সতর্ক থাকতে হবে।
অচেনা কোনো নম্বর থেকে হঠাৎ বার্তা এলে শুরু থেকেই সতর্ক থাকবেন। বিশেষ করে বার্তায় আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব, মোটা অঙ্কের আয়ের প্রতিশ্রুতি, লটারিতে জেতার দাবি, অথবা জরুরি সাহায্যের কথা বলা হলে অবশ্যই সন্দেহ করবেন।
অনেক প্রতারক ভুল নম্বরে বার্তা পাঠানোর ভান করে কথোপকথন শুরু করে। আবার কেউ নিয়োগদাতা, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা পরিচিত কারও বন্ধু পরিচয় দেয়। উদ্দেশ্য হলো—বিশ্বাস অর্জন করে পরে প্রতারণা করা। এমন ধরনের বার্তার জবাব না দিয়ে নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করাই নিরাপদ পন্থা।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না।
প্রতারকেরা প্রায়শই ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে, যা দেখতে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কুরিয়ার সেবা বা জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের আসল ওয়েবসাইটের মতো। অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। পরিচিত ব্যক্তির পাঠানো লিংক হলেও প্রয়োজনে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন। মনে রাখবেন, কোনো ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপে লিংক পাঠিয়ে লগইন, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য চাবে না।
ওটিপি বা স্ক্রিন শেয়ার করবেন না।
কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বৈধ সেবাদাতা সংস্থা কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) চায় না। অন্য কাউকে ওটিপি জানিয়ে দিলে ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যদি ফোন বা ভিডিও কলে স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, তবে তাতেও রাজি হবেন না। স্ক্রিন শেয়ারের মাধ্যমে আপনার ফোনে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, ওটিপি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য দেখা সম্ভব।
পরিচিতের পরিচয়ে টাকা চাইলে যাচাই করুন।
সম্প্রতি নতুন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় পরিচয়ে টাকা চাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। প্রতারকেরা ছেলে, মেয়ে, ভাই বা বোন পরিচয়ে জরুরি সমস্যার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনুরোধ করে।
এ ধরনের বার্তা পেলে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচিত নম্বরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।
সন্দেহজনক নম্বর রিপোর্ট করুন।
হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহজনক নম্বর খুব সহজেই রিপোর্ট করা যায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট চ্যাট খুলে উপরের নাম বা নম্বরে চাপ দিয়ে নিচে স্ক্রল করে ‘রিপোর্ট’ অপশন নির্বাচন করুন। চাইলে একই সঙ্গে নম্বরটি ব্লকও করতে পারবেন। রিপোর্ট করলেই প্রেরক কোনো নোটিফিকেশন পান না। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে, যা প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্তে সহায়তা করে।
নিরাপত্তা বাড়াতে যেসব সেটিংস চালু করবেন।
নিরাপদ থাকতে, হোয়াটসঅ্যাপের কিছু নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস ও সর্বশেষ অনলাইন থাকার তথ্য শুধু পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। কলস অপশনে গিয়ে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ চালু করলে অপরিচিত নম্বরের কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরব হবে। অ্যাকাউন্ট থেকে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করে ছয় সংখ্যার একটি পিন নির্ধারণ করুন। ফলে কেউ আপনার নম্বর অন্য ডিভাইসে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর যুক্ত হবে।
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা বা অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা নতুন নয়। সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তাই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, তথ্য যাচাই এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার সচেতনতা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন