প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে সিসিবি’র নির্বাহী কমিটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের কিছু সময় পরে শামা ওবায়েদ ইসলাম অনারারি কনসালদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনার শক্তিশালী দূত হিসেবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
রাজধানীর এই হোটেলে অনুষ্ঠিত কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)’র নির্বাহী কমিটির সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শামা ওবায়েদ ইসলাম এ সময় সিসিবি’র সদস্যদের কাছে পাঁচটি প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও দক্ষ কর্মসংস্থানে অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিন। বিশেষ করে আফ্রিকাসহ উদীয়মান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে সহায়তা করুন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করুন ও বিশ্ববাসীর কাছে প্রকৃত বাংলাদেশকে তুলে ধরুন।’
তিনি আরও জানান, সরকার অনারারি কনসালদের বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাদের কর্মকাণ্ড কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এর বাইরে গিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কথায় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনারারি কনসালরা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য তাদের অবদান বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
তিনি আশ্বাস দেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিসিবি’র সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণই সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মূল ভিত্তি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ অধিক বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, উন্নত প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, পর্যটন বৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার প্রত্যাশা করে।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, অনারারি কনসালরা এসব লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ‘আপনারা আগেভাগেই সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করতে পারেন, উপযুক্ত অংশীদারদের সংযুক্ত করা এবং ধারণাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দিতে সহায়তা করতে পারেন,’ তিনি বলেন।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি বৃহৎ ভোক্তা বাজারই নয়, বরং দেশের তরুণ ও পরিশ্রমী জনশক্তি, গতিশীল উদ্যোক্তা ও সম্প্রসারণশীল উৎপাদন খাতের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থান দেশটিকে বিনিয়োগ, উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা (লজিস্টিকস) ও আঞ্চলিক সংযোগের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অংশীদারিত্ব পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে হবে। আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও বৈশ্বিক বাজারে অবদান রাখতে উৎসাহিত করছি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সিসিবি’র নতুন পরিচালনা পর্ষদ বাস্তবধর্মী সহযোগিতা, আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং দৃশ্যমান সাফল্যের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, সম্মানসূচক কনসাল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিসিবি’র সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়াল কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিসিবি’র সহ-সভাপতি শাহাব সাত্তার ও শাখাওয়াত হোসেন, মহাসচিব কাজী শাহ মুজাক্কার আহমদুল হক ইশমাম ও কোষাধ্যক্ষ মাসুদ জামিল খান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন