প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করার লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের এনএস১ পরীক্ষা করা হবে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে গত রোববার জারি হওয়া একটি প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা নিরাপদ চিকিৎসা প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যে সকল রোগীরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসবেন এবং তাদের ডেঙ্গুর সন্দেহ রয়েছে, তারা কোনো ধরনের ফি ছাড়া পরীক্ষাটি করাতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আগত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু সংক্রমণের শুরুতেই এনএস১ (নন-স্ট্রাচারাল প্রোটিন ১) পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সাধারণত জ্বরের প্রথম ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হলে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ফলে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, সকল জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১২টি দপ্তরে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা বিবেচনা করে রোগীদের আর্থিক চাপ কমানো, দ্রুত রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা এবং সরকারি হাসপাতালভিত্তিক ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়েই সহজে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন। আশা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন