প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রভান্ডার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সামর্থ্য দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর এ বিষয়ে উদ্বেগের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বর্ণনা করেন, যদি বর্তমান হারে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।
সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। সিএসআইএসের হিসাবে, গত এপ্রিল পর্যন্ত দেশটি তাদের অন্তত অর্ধেক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও'হ্যানলনের মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত কমে গেছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। তাছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন কোন থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার জানিয়েছেন, অধিকাংশ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ জন ফেরারির মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য কংগ্রেস অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়নি, যার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে নেই।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহের জন্য হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি বাড়াতে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে না। নতুন উৎপাদন লাইন চালু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে একটি প্যাট্রিয়ট কারখানা নির্মাণ করতে তিন বছর লেগেছে। অন্যদিকে, জার্মানি ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু করলেও এখনও উৎপাদনে সফল হয়নি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনও যুক্তরাষ্ট্রেরই এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা তার হাতে রয়েছে। অন্যদিকে, মাইকেল ও'হ্যানলনের মূল্যায়ন, বর্তমানে চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তবে একটি বিশেষ সীমার পর সেই সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। সেই সীমা কোন জায়গায় তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ বিষয়টি অনেকাংশেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের ওপরে নির্ভরশীল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন