প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবীণ গোয়েল পুনেতে ব্যবসা করেন। যদিও তিনি বিশাল আগরওয়ালের মতো অত বড় ব্যবসায়ী নন।
দীর্ঘদিন ধরে গোয়েল ও আগরওয়াল পরিবারগুলোর মধ্যে জানাশোনা ছিল এবং দুই পরিবার সে জানাশোনাকে আত্মীয়তা বন্ধনে বাধার উদ্যোগ নেয়।
প্রবীণ গোয়েলের একমাত্র কন্যা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে বিশাল আগরওয়ালের একমাত্র ছেলে কেতন আগরওয়ালের বাগদান গত ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে যায়। বাগদানের পর থেকে দুটি পরিবারে সুখের বন্যার বয়ে যাওয়া শুরু হয়।
আগামী নভেম্বরে জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সিয়ার মনে ছিল অন্য কিছু। তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে তিনি গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন আগরওয়ালকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেন।
একটি মৃত্যু দুটি পরিবারকে এলোমেলো করে দিয়েছে। আগরওয়াল পরিবার সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর, শোকে স্তব্ধ গোয়েল পরিবারও একই অবস্থা। কেতন যে তাদের কাছে সন্তানসম। কেতনের হত্যায় সিয়া জড়িত, এটা জানার পর প্রবীণ গোয়েলের হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে তাকে দেখাশোনা করতে স্ত্রী পূজা গোয়েল এবং ছেলে সাহিল গোয়েলও দিনরাত কাটাচ্ছেন।
সিয়া গোয়েলের মা পূজা গোয়েল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কেতনের মৃত্যু একটি নয়, দুটি পরিবারকে এলোমেলো করে দিয়েছে। কেতনের মৃত্যুতে তাদের (আগরওয়াল পরিবার) মতো আমরাও বেদনার্ত।’
কেতনের মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্বাসই হচ্ছে না প্রবীণ গোয়েলের। তিনি বলেন, ‘তারা (আগরওয়াল পরিবার) ছেলে হারিয়েছে। কিন্তু কেতন আমাদের কাছে ছেলের মতোই ছিল। আমরা তাকে অনেক ভালোবাসতাম। অল্প দিনে তার সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, মনে হতো কেতন আমার আরেকটি ছেলে। এমন সম্ভাবনাময়, ভালোবাসার সন্তান হারিয়ে আমরাও শোকে কাতর।’
কেতনের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে প্রবীণ গোয়েল বলেন, ‘মেয়ের বিয়েকে সামনে রেখে আমি বাড়ি সংস্কারের কাজ করছিলাম। কেতন এসে বলত, পাপাজি প্লাম্বিং, মার্বেলের কাজ বা ফার্নিচারের কাজ; যেকোনো কাজে আমাকে বলবেন। আমি সব সামাল দেব। সে কখনো না বলত না।’
যেমন গোয়েল পরিবার সন্তানের মতো কেতনকে আদর করত, তেমনি তিনি সিয়াকেও গভীর ভালোবাসায় বরণ করে নিয়েছিল। বিয়ের আয়োজনের মধ্যে নানা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। সিয়ার জন্মদিন উদযাপনেও নানা পরিকল্পনা ছিল।
সিয়ার মা পূজা বলেন, ‘দুজনকে খুব সুখী মনে হচ্ছিল। এ জুটিকে ঘিরে আমাদের অনেক আশা ছিল, ভালোবাসা ছিল।’
সিয়ার পরিবার চেতনের সঙ্গে তার সম্পর্ক জেনেও সেটা গোপন করেছিল, কিন্তু আগরওয়াল পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে গোয়েল পরিবার। সিয়ার মা পূজা বলেছেন, ‘আমরা চেতনকে চিনতাম না। সে কখনো আমাদের বাসায় আসেনি। তাকে আমরা কখনো দেখিনি।’
সিয়া গোয়েলের ভাই সাহিল গোয়েলও চেতনের সঙ্গে বোনের সম্পর্কের কথা জানতেন না। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সিয়া যদি তাদের কিছু জানাত তাহলে প্রয়োজনে তারা বিয়ে ভেঙে দিত।
শুক্রবার পুলিশ সিয়ার ভাইকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিয়া ও চেতন ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। পুলিশ সিয়ার ভাই ছাড়াও আরও ৭ জনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য ও দুই অভিযুক্তের বন্ধুদেরও ডাকা হতে পারে।
একমাত্র ছেলের অভিযুক্ত হত্যাকারী সিয়া গোয়েলের প্রতি আগরওয়াল পরিবারের ক্ষোভ তো আছে, সুখের আয়োজনে বেদনার কালি লেপে দেওয়ায় সিয়ার প্রতি গোয়েল পরিবারের ক্ষোভ কম নয়। প্রথমে দোষী হলে সিয়া গোয়েলের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চেয়েছিলেন তার মা-বাবা। এখন তাদের রাগ আরো বেড়ে গেছে।
প্রবীণ গোয়েল ও পূজা গোয়েল অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, ‘কেতনকে যে বা যারা লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল, তাদেরও যেন ঠিক সেখান থেকেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, এমনকি সে যদি আমাদের মেয়েও হয়।’
সিয়াকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে না ফেললেও পুলিশ মানুষের আকারের একটি বস্তু ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে। ঘটনার অ্যারেঞ্জমেন্ট নতুন করে মঞ্চায়নের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সবগুলো ঘটনা এক সুতায় গাঁথতে চাচ্ছে। ঠিক যেখান থেকে কেতনকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ ঠিক সেখান থেকেই কেতনের আকৃতির একটি বস্তু ধাক্কা দিয়ে ফেলে। পুলিশ আসলে বুঝতে চাইছে, কেতনকে ধাক্কাটা চেতন বা সিয়া একা দিয়েছিল নাকি দুজন মিলে দিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন