প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত শিশু যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে একটি গোপন সম্পর্ক ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এই বিষয়টি অবশেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একেবারে শীর্ষ মহলের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল এপস্টেইনের।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন ক্রীড়া ভাষ্যকার, কৌতুক অভিনেতা এবং সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক জো রোগানের একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ভ্যান্স। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি বহুল আলোচিত এপস্টেইনকে নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন।
জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার যে যোগাযোগ ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ মহলের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল।’
কথা প্রসঙ্গে ভ্যান্স নিজেকে ‘এপস্টাইন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অন্যতম আদি প্রবক্তাদের একজন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তিনি এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন তত্ত্ব পর্যালোচনা করেছেন।
যখন রোগান এপস্টাইনের সঙ্গে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কথিত সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত জল্পনার কথা তোলেন, তখন ভ্যান্স জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, মোসাদ বা সিআইএ, কিংবা অন্য কোনো ডিপ স্টেট।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আরও জানান, ‘যতটুকু আমি জানি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খুব জনপ্রিয় নন, এপস্টেইনের সম্পর্ক ছিল ইসরাইলি ডিপ স্টেটের এমন কিছু অংশের সঙ্গে, যারা রাজনৈতিকভাবে মধ্য-বামপন্থী ছিল।’
তিনি দাবি করেন, ‘ডানপন্থীদের তুলনায় ইসরাইলের মধ্য-বামপন্থী মহলের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক অনেক গভীর ছিল।’ এই মন্তব্যগুলো এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা চলছে।
ভ্যান্স স্বীকার করেন, এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশলে ভুল ছিল। তিনি এর জন্য মূলত যোগাযোগজনিত সমস্যা এবং তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির ‘অতিরঞ্জিত দাবি’কে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সঠিকভাবে সামলাতে পারিনি, বিশেষ করে জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। আমার মনে হয়, শুরুতেই আমাদের সবকিছু প্রকাশ করে দেওয়া উচিত ছিল। যত দ্রুত সম্ভব কাজটি করা উচিত ছিল।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা তথ্য গোপনের চেষ্টা ছিল না। তিনি নথি প্রকাশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান এবং ২০০৮ সালের বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তিকে তদন্তের ‘মূল পাপ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এপস্টেইনের সাথে বিলিয়নিয়ার লেস ওয়েক্সনারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তার ধারণা, এপস্টেইন প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে কিছু সন্দেহজনক কর-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল বলে যে ধারণা প্রচলিত আছে, তা তিনি নাকচ করে দেন এবং এ ধরনের দাবিকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্ক শহরে বেড়ে ওঠা জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন ইহুদি ফাইন্যান্সার বা অর্থলগ্নিকারী ও ব্যবসায়ী। কিন্তু ব্যবসায়ী পরিচয়ের পেছনে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার ও যৌন নিপীড়নের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনতার জন্য পাচার ও নিপীড়নের নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে ২০১৯ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ওই বছরের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়।
তবে অনেকেই একে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করেন। ২০২৪-২০২৫ সালে তার মামলার সাথে সম্পর্কিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়। এরপর চলতি বছরে আরও নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ।
এই নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং ব্যবসায়ী বিল গেটসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন