প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্তের। ক্লাব ফুটবল থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বিশ্বকাপে কখনো তারা একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামেননি। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তাদের এই আক্ষেপ ঘুচতে পারে।
নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে রয়েছে নকআউট পর্বের জটিল সমীকরণ, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক সম্ভাবনা। বর্তমানে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপে এবং পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপে রয়েছে। গ্রুপ পর্বের ফলাফল ও পরবর্তী ব্র্যাকেটের বিন্যাসের ওপর নির্ভর করছে দুই দলের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ।
আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে ইতোমধ্যেই ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে হারলেও হেড-টু-হেড সুবিধার কারণে আলবিসেলেস্তেদের গ্রুপ সেরা হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
অপরদিকে, পর্তুগালের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। তারা বর্তমানে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে। তবে অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ বা সেরা তৃতীয় দল হিসেবেও নকআউটে জায়গা করে নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয় দল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে এবং রাউন্ড অব ৩২ ও রাউন্ড অব ১৬ পেরিয়ে যায়, তাহলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ১১ জুলাই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক্ষিত লড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিশ্বকাপে প্রথমবার সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পর্তুগাল সেরা তৃতীয় দল হিসাবে নকআউটে চলে আসে, তাহলে রাউন্ড অব ৩২ তে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
যদি পর্তুগাল ভিন্ন অবস্থানে থেকে নকআউটে চলে আসে, তাহলে ব্র্যাকেটের বিন্যাস বদলে যেতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দুই দলের দেখা সেমিফাইনালে হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
আবার যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং পর্তুগাল গ্রুপ রানারআপ হয়ে যায়, তাহলে তারা ভিন্ন ব্র্যাকেটে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে নকআউট পর্বের শুরুতে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। যদি দুই দল সব বাধা অতিক্রম করে, তবে তারা নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মেসি ও রোনালদোর দেখা হতে পারে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত ব্র্যাকেট নিশ্চিত না হলেও বর্তমান সমীকরণে কোয়ার্টার ফাইনালই দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের এখন নজর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর দিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন