প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০১৬ সালে ভাঙা হৃদয়ে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার একটি ফাইনাল হার, সমালোচনা এবং অপূর্ণতার যন্ত্রণার কারণে মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর গল্প এখানেই শেষ।
কিন্তু ফুটবল যেন তাঁর জন্য অন্য এক চিত্রনাট্যই লিখে রেখেছিল। ঠিক এক দশক পর, ৩৯তম জন্মদিনে সেই মেসিই সংগ্রহ করেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব। অবসর থেকে ফিরে এসে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসও।
২০১৬ সালের সেই রাতে, চিলির বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসি বলেছিলেন, 'আমার জন্য জাতীয় দল শেষ। আমি সবকিছু দিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার কষ্টটা খুব বেশি।' সেই সময় হয়তো তিনি কল্পনা করতেও পারেননি যে, একদিন তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ার এমন উচ্চতায় পৌঁছাবে। অবসরের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পর আর্জেন্টিনা ও মেসির স্বর্ণযুগ শুরু হয়।
টানা দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপার পর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয় এবং আরেকটি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড তৈরির ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন তিনি। গত পরশু অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে মেসি করেছেন জোড়া গোল। যদিও ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করে হতাশায় মুখ লুকাতে হয়েছিল তাঁকে। তবে মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সকলের সেরা।
তাঁর গল্প যে শেষ হওয়ার নয়, সেটিই আবারও দেখালেন তিনি। মহাতারকারা যে হতাশার পরে মহাদর্পে ফিরে আসে, তারই প্রমাণ রেখেছেন দুই অর্ধে দুটি গোল করে। এর ফলে, জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ১৮ গোল নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক হয়েই এখন সবার উপরে। ম্যাচের শেষ মিনিটে মেসি যখন অস্ট্রিয়ার জালে নতুন করে বল পাঠালেন, তখন বিবিসির ধারাভাষ্যকার স্টিভ বাওয়া বলছিলেন, 'মেসির আরেক অমর মুহূর্ত।'
ম্যাচ শেষে মেসির কণ্ঠে ছিল তৃপ্তি এবং প্রশান্তির সুর, 'আমি খেলাটা উপভোগ করছি, মাঠে আনন্দ করছি। মানুষকে এভাবে খুশি করতে পারাটা আমাদের জন্য আনন্দের।' বিশ্বকাপে বর্তমানে ২৮ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ১৮টি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জর্দানের বিপক্ষে, এরপর নক আউট পর্বটি অপেক্ষা করছে। সুতরাং, গোলের এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন ফুটবলবিশ্বের অন্যতম কৌতূহলের বিষয়। ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলা মেসি তাঁর ১৮ গোলের মধ্যে ১৩টি করেছিলেন ২০১৬ সালে অবসর ভেঙে ফেরার পর। আর ১২টি গোল করেছেন ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর। যা অত্যন্ত অবিশ্বাস্য। এই বয়সেও মেসি ছাপিয়ে গেছেন তরুণ ও সেরা সময়ে থাকা খেলোয়াড়দের। যে বয়সে বেশিরভাগ ফুটবলার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে যান, সেই বয়সেই মেসি নতুন নতুন মহাকাব্য রচনা করছেন। গোল করছেন। রেকর্ড ভাঙছেন। ইতিহাস বদলে দিচ্ছেন। স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক গুয়েম বালাগে তাই বলেছেন, 'মেসিকে নিয়ে বিশ্লেষণ অথবা তাঁর জন্য মূর্তি বানানোর সময়ই নেই। তিনি এত দ্রুত নতুন ইতিহাস গড়ছেন যে, তাঁর সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন।'
বালাগের মতে, বয়স তো মেসিকে থামায়নি বরং আরো পরিণত করেছে। তিনি বলেন, 'আগের বিশ্বকাপগুলোতে এমন ম্যাচও দেখেছি, যেখানে ৯০ মিনিট খেলতে তাঁর কষ্ট হতো। কিন্তু এখন ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিনি অন্যদের মতো দৌড়াচ্ছেন। নিজের শরীরকে তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো বোঝেন। মেসির গতির প্রয়োজন নেই, তিনি বুদ্ধিমত্তা দিয়েই ডিফেন্ডারদের হারিয়ে দেন।'
এক দশক আগে যে মানুষটি হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, সেই তিনিই এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফুটবলে প্রত্যাবর্তনের মতো অনেক গল্প আছে। কিন্তু অবসর থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার গল্প সম্ভবত একটিই। এবং সেই গল্পের নাম লিওনেল মেসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন