প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত ফেয়ার পার্কে জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা। তবে মেলার মূল উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে এখন প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণনেশা 'লটারি জুয়া'। মহামান্য হাইকোর্টের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুরো জেলা জুড়ে প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রি। আর এই লটারির ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে লটারিতে দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি ও নগদ অর্থসহ নানা লোভনীয় পুরস্কারের অফার। মেলা প্রাঙ্গণ ও পুরো জেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাইকিং ও অটোরিকশা দিয়ে চলছে টিকিট বিক্রির মহোৎসব। পুরস্কারের আশায় ঘরে থাকা জমানো টাকা এবং দৈনন্দিন উপার্জনের অর্থ দিয়ে বান্ডিল কে বান্ডিল টিকিট কিনছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
লটারির ড্র-এর সময় সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি অবুঝ শিশুর চোখ বেঁধে টিকিট তোলানো হয়। এই চতুর কৌশল দেখে পুরস্কার পাওয়ার আশায় মানুষ আরও বেশি প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, এই লটারি জুয়া যে অঞ্চলে একবার হানা দেয়, সেখানকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। মেলার নামে এই জুয়া বন্ধ না হলে মেলা শেষ হওয়ার পর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো মারাত্মক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ: "উন্নয়নের নামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার অনুমতি নিয়ে কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ লটারি জুয়া চলে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে এই মরণনেশা লটারি বন্ধ করা না হলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে।"
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলা এই অবৈধ জুয়া খেলা বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাধারণ মানুষকে এই সর্বনাশা প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতি দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সৈয়দপুরবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন