প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। শেষ বাস্তবায়নের পর, দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, পুরোনো ঋণ কর্মসূচি চলমান থাকলেও নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ পেতে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইএমএফের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, পুরোনো ঋণের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।
আরিফ হোসেন খান বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
সফরের শেষ দিনে, নতুন ঋণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফের প্রতিনিধি দল। তাদের সফরজুড়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, চলমান সংস্কার কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে।
এই মিশনের ১২ সদস্য গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। সফরের শেষ দিনে তারা পাঁচ দিনের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক ঋণ আলোচনা শুরুর আগে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে সফরের তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এই সময় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব আদায়, করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও নিয়োগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, সার ও খাদ্য ভর্তুকির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণ এবং বৈদেশিক অর্থায়নের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইএমএফ তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। পাশাপাশি কোন কোন খাতে কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, তাও ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন