প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের (৪০) বাড়িতে ডাকাতির একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাধা দেওয়ার কারণে ডাকাতের দায়ের কোপে কামরুন আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মঞ্জুরুল ও তাদের মেয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি (তেতুইবাড়ি) এলাকার নগরভেলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুন আক্তার ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মেয়ে। আহত মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তার বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্মাণকাজের জন্য বাড়িতে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে আনেন মঞ্জুরুল। পরে শুক্রবার মধ্যরাতে ৫-৬ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
তারা আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করার সময় কামরুন আক্তার টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় ডাকাত সদস্যদের সঙ্গে ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল, তার স্ত্রী কামরুন ও মেয়ে মিমের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ডাকাতেরা দা দিয়ে কুপিয়ে তাদেরকে আহত করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাতরা মালামাল লুট করে চলে যায়। তবে তাদের অপর দুই সন্তান অক্ষত ছিল। পরে গুরুতর আহত গৃহবধূ কামরুন আক্তারকে স্থানীয় 'ডিভাইন মার্সি' হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ডিভাইন মার্সি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন জানান, রাত সোয়া ৪টার দিকে গৃহবধূ কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তার মাথায় ও বুকে আঘাত করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আসার সাথে সাথেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ও তার মেয়ে মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের ঘর থেকে কিছু নিয়ে যেতে পারেনি ডাকাতরা। ঘরের সোফার উপর ২৪ হাজার টাকা, আলমারির ভেতরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা রয়েছে এবং ৫-৬ লাখ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটা ডাকাতি না অন্য কিছু তা এখনও বলা যাচ্ছে না। আলামত সংগ্রহ করে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের লোকজন নিহত ও আহতদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো মামলা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন