প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি লস অ্যাঞ্জেলেসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো।
মেক্সিকো ও কানাডার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও রঙিন করে তোলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাঠে গড়ায় ‘ডি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ, যেখানে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হয় প্যারাগুয়ের।
ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্তের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা, যাঁদের মধ্যে মার্কিন পপ তারকা ক্যাটি পেরি, র্যাপ শিল্পী ফিউচার, ব্রাজিলের গায়িকা আনিতা, দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পী লিসা, নাইজেরিয়ার আফ্রোবিট তারকা রেমা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীতশিল্পী টাইলা একটি অসাধারণ পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের সামনে তাঁদের পরিবেশনা এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। অনুষ্ঠানটির কথাতে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের আসরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯৪ সালের পর এটি দেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুটবল, সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন আয়োজকরা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন যে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের নির্বাচন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় এবং অভিবাসী সমাজের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, "ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, এটি সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ঐক্যের একটি বৈশ্বিক উদযাপন।"
উদ্বোধনী পর্বটি শেষ হওয়ার পরের সময়টাতে মাঠের উত্তেজনা শুরু হয়। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ছিল লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র প্যারাগুয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে মূল আসরে জায়গা করে নেওয়া দলটি এবারও চমক দেখানোর প্রত্যাশায় মাঠে নামে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। ১৯৩০ সালের প্রথম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের। প্রায় এক শতাব্দীর পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনের পর এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি মাঠের লড়াইয়ে। স্বাগতিক দর্শকদের প্রত্যাশা হলো, উৎসবের আবহ মাঠের পারফরম্যান্সেও ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে তাদের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে চেষ্টা করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন