প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশ ও বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় দিন—জুলাই বিপ্লবের সূচনার বর্ষপূর্তি। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচারী শাসনের শিকল ভেঙেছিল। সেই বিপ্লবের চেতনা যেমন আমাদের গর্বের, তেমনি সেই বিপ্লব রেখে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত।
সেই ক্ষতগুলোর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ সাংবাদিক রায়হান আলী। যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ হারিয়েছেন শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা, লড়ছেন এক কঠিন ভবিষ্যতের সঙ্গে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনই যেন কাল হলো
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। নীলফামারীর চৌরঙ্গীর মোড়ে উত্তাল আন্দোলনের দৃশ্য কভার করছিলেন সাংবাদিক রায়হান আলী। জনতার কণ্ঠস্বর ও সত্য তুলে ধরার যে ব্রত নিয়ে তিনি ক্যামেরা হাতে মাঠে নেমেছিলেন, সেই দায়িত্ব পালনই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পুলিশের বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার শরীরের ডান পা পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায় এবং মেরুদণ্ডে (স্পাইনাল কর্ড) গুরুতর আঘাত পান তিনি।
থাইল্যান্ডের হাসপাতালে লড়াই
আঘাতের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, দেশের চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ব্যাংককের ভেজথানি (Vejthani) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এই শারীরিক লড়াই। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি ভুলতে পারেন না সেই উত্তাল জুলাইয়ের কথা, ভুলতে পারেন না তার চার বছরের অবুঝ সন্তানের মুখটি। যে শিশুটি তার বাবার সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, আজ সেই বাবার এমন করুণ দশা কারো কাম্য নয়।
জুলাই আমাদের স্মৃতির আয়না
রায়হান আলীর মতো অনেকের আত্মত্যাগেই আজকের নতুন বাংলাদেশ। সাংবাদিকরা যখন গুলির সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন, তখন তারা কেবল ঘটনার বিবরণ দেন না, তারা ইতিহাসের দলিল তৈরি করেন। রায়হান আলীর এই পরিণতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি স্বাধীন দেশের মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।
আজকের এই দিনে, জুলাই বিপ্লবের তৃতীয় বার্ষিকীতে, আমরা রায়হান আলীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। রাষ্ট্রের উচিত এই বীর সেনানীর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, একটি জাতি তার বীরদের ভুলে গেলে, সেই জাতি ইতিহাসের কাছে ঋণী থেকে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন