প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থ পাচারের অভিযোগ: বন্ধ হয়ে গেল ফরচুন গ্রুপের ‘আনান সুজ’ ৫ মাস ধরে বেতনহীন কর্মীরা
অর্থনৈতিক সংকটের মুখে অবশেষে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ফরচুন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আনান সুজ কোম্পানি। একের পর এক লোকসানের কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন, আবার অনেককে ফরচুন গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ৪৭২ জন কর্মী নিয়ে বরিশালে যাত্রা শুরু করে ফরচুন সুজ। প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি ফরচুন গ্রুপে পরিণত হয়। বর্তমানে সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন।
জানা গেছে, ফরচুন গ্রুপের বরিশালে তিনটি এবং ঢাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ছিল। সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত আনান সুজ কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে বরিশালে তিনটি এবং ঢাকায় চারটিসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত লোকসান ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই আনান সুজের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তানরা গত তিন বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, যার প্রভাব কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর পড়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা চেয়ারম্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্য, বছরের পর বছর বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমানে অনেক কর্মকর্তা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাননি। সুপারভাইজারদের চার মাসের এবং সাধারণ কর্মীদের দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে অর্থ পাচার ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তদন্ত এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন